আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়: কাদের গনি চৌধুরী

অনলাইন প্রতিবেদক
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (আমান) আয়োজিত ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কথা বলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষাখাতে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (আমান) আয়োজিত ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিক্ষায় সফলতা অর্জনের জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা, পাঠে মনোযোগ ও নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়মিত পাঠদান ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান। আর অভিভাবকদের দায়িত্ব সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো, পড়াশোনার খোঁজ রাখা এবং তাদের সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়া।

অভিভাবকদের প্রতি তিনি বলেন, শুধু সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে—সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

পরিবারের গুরুত্ব তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, পরিবারই হলো শিশুর প্রথম শিক্ষালয়। এখান থেকেই একজন মানুষের মূল্যবোধ, চরিত্র ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে ওঠে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করে, কিন্তু পারিবারিক সুশিক্ষা ছাড়া সেই জ্ঞান পূর্ণতা পায় না।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি থাকলেও তা ১২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। জিডিপির অনুপাতে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২ শতাংশ, যা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী বাজেটের ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ এখনও সে লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমানের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, ইকো ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এবং মানারাত ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights