সমন্বিত কৃষি খামারে ভাগ্যবদল: অন্যদের পথ দেখাচ্ছেন ইয়াছিন
কুমিল্লা প্রতিনিধি
একসময় গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ছিল—গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ। সেই চিত্র এখন অনেকটাই হারিয়ে গেলেও কুমিল্লার এক কৃষকের খামারে যেন ফিরে এসেছে সেই ঐতিহ্য। প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে গড়ে তোলা সমন্বিত কৃষি খামারে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের মো. ইয়াছিন মিয়া পাখি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ চাষ, গোয়ালে গরু, খামারে মুরগি আর মাঠজুড়ে বিভিন্ন ফসল—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে ইয়াছিনের। একসময় কুয়েতে প্রায় এক যুগ প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে পারিবারিক খামারকে বড় করার উদ্যোগ নেন তিনি।
ইয়াছিন মিয়া জানান, প্রথমে গরুর খামার সম্প্রসারণ করেন। এরপর পুকুরে মাছ চাষ, ব্রয়লার মুরগি পালন এবং ধান-সবজি উৎপাদন শুরু করেন। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করে ভালো আয় করছেন। গত বছর ২৪ শতক জমিতে কলা চাষ করে খরচের তুলনায় কয়েকগুণ লাভ করেন। এ বছর আরও বেশি জমিতে কলা আবাদ করেছেন।
স্থানীয় খিলপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও হুমায়ুন কবির বলেন, আগে আমাদেরও এ ধরনের সমৃদ্ধি ছিল। এখন তা কমে গেছে। ইয়াছিনের খামার দেখে আবার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
আরেক কৃষক জাকির হোসেন জানান, ইয়াছিনের কাছ থেকে কলার চারা নিয়ে চাষ করে তিনিও ভালো ফলন পেয়েছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও পরিচর্যার কারণে ইয়াছিন সফল হয়েছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাত বলেন, তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করায় ভালো ফলন পেয়েছেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও এগিয়ে আসছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জোনায়েদ কবির খান বলেন, জি-নাইন জাতের কলা চাষে এই এলাকায় ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়াছিনের মতো উদ্যোমী কৃষক তৈরি করতে আমরা কাজ করছি।
