তামাকজাত দ্রব্যে সুনির্দিষ্ট করের প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্যে অ্যাড ভেলোরেম সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে তামাকজাত দ্রব্যে উচ্চ কর আরোপ : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বিইআর ও বিএনটিটিপি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও একাত্তর টেলিভিশনের প্ল্যানিং এডিটর সুশান্ত সিনহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ড. এস এম আবদুল্লাহ ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিথুন বৈদ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সভায় বিএনটিটিপির প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তামাক কর প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবে সিগারেটের বিদ্যমান চারটি মূল্যস্তরের পরিবর্তে তিনটি মূল্যস্তর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং মধ্যম ও নিম্ন স্তর একীভূত করে ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকায় অতিরিক্ত ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রিমিয়াম স্তর ছাড়া অন্য স্তরগুলো থেকে ‘ও তদূর্ধ্ব’ শব্দদ্বয় বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিড়ির ক্ষেত্রে ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিভাজন তুলে দিয়ে সুনির্দিষ্ট শুল্ক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ২০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়। জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং গুলের ৩০ টাকা নির্ধারণ করে উভয় ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এসব পণ্যে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্কের হার নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওপর ন্যস্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে সব তামাকজাত দ্রব্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার কথাও বলা হয়েছে।
