বিপজ্জনক পথে বিশ্ব

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আজ সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা টানা ১১ বছর ধরে বৃদ্ধির এই প্রবণতা বজায় রেখেছে। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই বিশ্ব জিডিপির ২.৫ শতাংশ এখন সামরিক খাতে ব্যয় হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইউরোপীয় মহাদেশের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রাশিয়ার সাথে চলমান সংঘাত এবং নিজেদের স্বনির্ভর করার প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় দেশগুলো এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে জার্মানির ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়ে ১১৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং স্পেনের ব্যয় বিস্ময়করভাবে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সম্মিলিতভাবে গত বছর ৫৫৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ে একটি অভাবনীয় পতন লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইউক্রেনকে সরাসরি সহায়তা প্রদানে অস্বীকৃতির কারণে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যয় ৭.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৫৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামীতে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সামরিক বাজেটের পরিকল্পনা করছেন, যা নতুন গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে ব্যবহৃত হবে।

এশীয় অঞ্চলেও সামরিক ব্যয়ের প্রতিযোগিতার চিত্র স্পষ্ট। চীন তাদের ব্যয় ৭.৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে, যেখানে জাপান ও তাইওয়ানও উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া তাদের সামরিক ব্যয় ৫.৯ শতাংশ বাড়িয়ে ১৯০ বিলিয়ন ডলার করেছে।

ইউক্রেন তার মোট জিডিপির ৪০ শতাংশ খরচ করে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশে পরিণত হয়েছে। এই ব্যাপক সামরিকায়নের কড়া সমালোচনা করে মস্কো জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে প্রদর্শন করে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট আড়াল করতে চাইছে। মূলত রাশিয়ার বিরুদ্ধে উস্কানি দিতেই পশ্চিমারা এই বেপরোয়া সামরিক প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে ক্রেমলিন দাবি করেছে।

সূত্র: আরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights