মেয়রের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্নের আইনগত সুযোগ নেই
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রের বর্তমান মেয়াদকাল নিয়ে প্রশ্ন তোলার আইনগত সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়রের মেয়াদকাল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তিনি এমন দাবি করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মেয়র জলাবদ্ধতা সমস্যা, চসিকের বর্তমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। চসিক মেয়রের মেয়াদকাল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জবাবে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুডিশিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে চসিক মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছি। ওই অর্ডারে স্পষ্টভাবে অবৈধ মেয়র রেজাউল করিমের ফলাফল বাতিল করে এবং তার মেয়রশিপ বাতিল করে আমাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে রেজাউল করিমের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২১ সালে, আর আমার প্রথম সভা হয়েছে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর। একটি মেয়াদকাল থাকে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী ৫ বছর। জুডিশিয়াল অর্ডার অনুযায়ী, আমার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালে; যেহেতু আমার প্রথম সভা হয়েছে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর। স্থানীয় সরকার আইন, জুডিশিয়াল অর্ডার এবং গেজেট অনুযায়ী মেয়াদ ৫ বছরের জন্যই হয়। সেই হিসাবে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আমার মেয়াদ আছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার যদি নির্বাচন ঘোষণা করে, আমি সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পদত্যাগ করে নির্বাচন করব। কিন্তু আমি চাইলে কোর্ট বা জুডিশিয়াল অর্ডার অনুযায়ী ৫ বছর থাকতে পারি। এ জায়গায় অনেকে ভুল ব্যাখ্যা করছেন। এখানে ভুল ব্যাখ্যার কিছুই নেই, এটি একটি আদালতের রায়। আদালতের রায়কে সবার সম্মান করতে হবে। কেউ যদি এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হন বা রায়টি তাদের ভালো না লাগে, তবে তাদের জন্য তো হাই কোর্ট খোলা আছে। তারা হাই কোর্টে আপিল করতে পারেন।’
জলাবদ্ধতা নিয়ে গত বছর আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখালেও এ বছর বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর কিছু কিছু এলাকা। এ জলাবদ্ধতাকে সাময়িক দাবি করে মেয়র বলেন, ‘গত বছর আমরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পেরেছিলাম। বাকি যে অংশগুলোতে সমস্যা ছিল, সেখানে কাজ চলছে। আজকে (গতকাল) প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর ও জামালখানসহ যেসব এলাকায় পানি উঠেছে, সেখানে তিনটি খালের কাজ করছে সিডিএ। রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের সুবিধার জন্যই সাময়িকভাবে খালগুলোতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের কারণে পানি নামতে বাধা পাচ্ছে বলেই বৃষ্টিতে পানি উঠেছে। এটা সাময়িক, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তারা বাঁধ খুলে দিচ্ছে, পানি দ্রুত নেমে যাবে। তবে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত শহর পেতে হলে এ রিটেইনিং ওয়ালগুলোর কাজ শেষ করা জরুরি।’ ডা. শাহাদাত বলেন, ‘একজন নির্বাচিত মেয়র তখনই খুশি হন, যখন তিনি জনগণের কাক্সিক্ষত সব কাজ করতে পারেন। কিন্তু আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। নগর সরকার না থাকায় আমরা পরিকল্পিত নগরায়ণ করতে পারছি না। সব সেবাদানকারী সংস্থাকে সমন্বয় করার জন্য আমি মন্ত্রী পদমর্যাদা চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীকেও অনুরোধ করেছি। এ পদমর্যাদা পেলে আমি সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারব।’ চট্টগ্রাম নগরী নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরী নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী ছাড়াও আমি ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ করে দেব, যার মধ্যে ১১টির কাজ প্রায় শেষ। প্রায় ৩ লাখ মানুষকে আমরা টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য হেলথ কার্ড করেছি, যাতে তারা ও তাদের পরিবার ৫০ শতাংশ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা পায়। ১০ লাখ শিশুকে টাইফয়েড এবং ১ লাখ মেয়ে শিশুকে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী এইচপিভি ভ্যাকসিন দিয়েছি। সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে আমরা আইসিইউ ও এনআইসিইউ স্থাপন করছি। ৬০টি রাস্তার সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছি।
ময়লা থেকে সম্পদ তৈরির কাজ, যেমন বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাংলাদেশে আমরাই প্রথম করছি। শহরের তারের জঞ্জাল মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। হকারদের পুনর্বাসনের জন্য চীনের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট করার পরিকল্পনা আছে। কালুরঘাট এলাকায় হাসপাতাল করার জন্য আমরা সেনাবাহিনীকে ৮ একর জায়গা দিচ্ছি। ঐতিহাসিক বিপ্লব উদ্যান, পাহাড়তলী বধ্যভূমি ও কালুরঘাটের মতো স্থানগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার ব্যবস্থা করছি, যেন পরবর্তী প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।’
