নেত্রকোনায় হাওর সমস্যার নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
হাওরে মানবসৃষ্ট দুর্যোগে বিপর্যস্ত কৃষকদের ৫ দফা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ বুধবার (৬ মে) বেলা ১২টায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক চত্বরে হাওরবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচিতে ডিঙ্গাপোতা হাওরসহ কৃষক সমিতির নেতারা অংশ নেন। এছাড়াও শ্রমিক ইউনিয়নসহ সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তারা বিএডিসির বীজ সম্পর্কে অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা, কৃষকের সরকারি-বেসরকারি-এনজিওসহ সকল প্রকার ঋণ মওকুফ করা, হাওরের ইজারা বাতিল করে সাধারণ মানুষের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সাথে যুক্ত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা ও হাওরে পশু খাদ্য ও কৃষকের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার এই ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাওরের সন্তান জলি তালুকদার, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক গোলাম রব্বানী, কৃষক শাফায়েত হোসেন, ক্ষেতমজুর নেতা হাবিবুর রহমান, এ্যাডভোকেট প্রেমানন্দ সরকার, কৃষ্ণ বিশ্বশর্মা, বিশিষ্ট আইনজীবী ডক্টর হামিদুর রহমান রাশেদ।
বক্তব্যে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার বলেন, বিএডিসি যে বীজ দিয়েছে সেটির বিষয়ে কৃষকের অভিযোগ আছে। এই অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে তথাকথিত ইজারার মাধ্যমে হাওরগুলো দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের মাছ ধরার এবং জীবিকা নির্বাহের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
জলি তালুকদার অভিযোগ করেন, ঢাকায় বসে যারা দেশ পরিচালনা করেন তারা দেশের প্রান্তে থাকা কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষকে ধারণ করেন না। ফলে হাওরের এই বিপর্যয়ে শুধু সামান্য খাদ্য সহায়তা বা ত্রাণ বিতরণ করার মধ্য দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করছেন।
তিনি আরও বলেন, হাওরের মানুষের জীবনের সংকট দূর করতে হলে এই অঞ্চলের বৈচিত্র্য বুঝে, প্রাণ ও প্রকৃতিকে ধারণ করে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙ্গা সম্ভব না হলে কোনো ভালো পরিকল্পনাই ফলপ্রসূ হবে না। তিনি সরাসরি ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান, কলমাকান্দার তিনটি হাওর-বিলের ইজারা বাতিল করার মতো সকল হাওরের ইজারা বাতিলের। সেই সাথে জাতীয় সংসদে যেন কাজের আলোচনা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার দাবি জানান।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের টাকায় সংসদ চলে। সেখানে আজেবাজে কথায় অন্য আলোচনায় সময়-অর্থ নষ্ট না করে কাজের আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ করেন।
