রংপুরে কোরবানির পশু কেনা-বেচা নিয়ে চলছে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ২৮ মে। তাই খুব একটা বেশি দিন বাকি নেই। পশুর হাটগুলোকে কেনা-বেচা এখনও জমে উঠেনি। এবার কোরবানির পশুর দাম কেমন হবে তা নিয়ে চলছে হিসেব নিকেশ।

কোরবানির পশুর দাম কমবে না, বেশি হবে এনিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। এবার আগে ভাগেই ইজারাদাররা হাট প্রস্তুত করে রেখেছেন। খামারী ও গৃহস্থরা আশা করছেন, গোখাদ্যের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে এবার গত বছরের চেয়ে গরুর দাম বেশি হবে। অপরদিকে ক্রেতারা মনে করছেন, এবার উদ্বৃত্ত গরু রয়েছে তাই দাম কিছুটা কমতে পারে।

সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বড় বড় পশুর হাটগুলো হচ্ছে, লালবাগ, বুড়িরহাট, তারাগঞ্জ, পাগলাপীরহাট, বড়াইবাড়িহাট, চৌধুরানির হাট, নজিরেরহাট, পাওটানাহাট, কান্দিরহাট, সৈয়দপুরহাট, দেউতি, মিঠাপুকুর, বৈরাতি, জায়গিরহাট, শঠিবাড়ি, বালুয়াহাট, মাদারগঞ্জহাট, ভেন্ডাবাড়িহাট ইত্যাদি। এসব হাটে প্রচুর গরু খাসি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হাটে কেনা-বেচা জমে উঠেনি।

ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে আগে ভাগে কিছুটা কম দামে কোরবানির গরু কিনতে চায়। অপরদিকে পশু মালিকরা বেশি দাম পাওয়ার আশায় বসে রয়েছেন। তাদের মতে, ঈদের আগে আরও অনেক হাট পাওয়া যাবে, ওই সময় বেশিদামে বিক্রি করতে পারবেন। তবে বিক্রেতাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ঈদের আগে পশুর দাম কমে যেতে পারে। কারণ গত বছর শেষ সময়ে গরুর দাম কিছুটা কমেছিল।

জানা গেছে কয়েক বছর আগে রংপুরে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে ১১টি পশুর হাট চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ। “পশুরহাট” নামে একটি অনলাইন পেজ খুলে এই হাট চালু করা হয়েছিল। কিন্তু অনলাইনে গরুর হাট খুব একটা সারা ফেলতে পারেনি।

এদিকে ছোট বড় অনেক খামার মালিক তাদের নিজেদের গরু খাসি বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ছোট বড় পোস্টার বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দিয়েছেন। কেউ লিফলেট ছেড়েছেন, ব্যানার টাঙিয়েছেন। আবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণাও চালাচ্ছে। কেউ আবার আগাম বুকিং ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। যেহেতু অনেক মানুষ তাদের পছন্দের গবাদি পশু কেনারজন্য এখন আর হাটে যেতে চান না কিংবা বাসায় কুরবানীর পশু রাখার জায়গা নেই তাদের জন্য তারা বিভিন্নভাবে সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন।

বেশ কয়েকজন খামারী জানান, গরু বিক্রি করতে পারলেও ন্যায্য দাম পাবেন কিনা এ নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন। গরুর দাম বেশি হবে না কমে যাবে তারা তা বুঝতে পারছেন না। একই অবস্থা ক্রেতাদের বেলায়। তাদের অনেকেই আগাম গরু কেনার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিলেও, অনেকে অপেক্ষা করছেন দাম কমার।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডাক্তার মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার জানান, এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে সাড়ে পাাঁচ লাখের বেশি হলেও খামারী এবং গৃহস্তরা তাদের গরু-খাসির ন্যায়্য দাম পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights