যুদ্ধ পরিস্থিতি ফের জটিল হচ্ছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফার প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের জবাবকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান কখনো শত্রুর সামনে মাথা নত করবে না। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণের আগ পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হবে না।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের দেওয়া জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দেয় ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের দেওয়া জবাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ কীভাবে বা কখন আবার খুলে দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে যেসব দাবি জানিয়েছে এগুলো অযৌক্তিক। অন্যদিকে ইরান যেসব দাবি জানিয়েছে তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। আমরা যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিনিদের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ও জলদস্যুতা বন্ধ এবং যেসব ব্যাংকে ইরানের অর্থ জব্দ করে রাখা হয়েছে সেগুলো অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছি। যার সবই সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি, বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটিগুলো সংঘাত ও দমন-নিপীড়নের একটি উদাহরণ। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান কখনো তার বৈধ অধিকার থেকে সরে আসবে না। আমরা কখনো শত্রুর সামনে মাথা নত করব না। আলোচনা বা সংলাপের কথা উঠলেই সেটিকে আত্মসমর্পণ বা পিছু হটা ভাবার সুযোগ নেই। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দৃঢ়ভাবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।

অন্যদিকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের আগ পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা এই যুদ্ধ থেকে অনেক কিছু অর্জন করেছি। এখন যুদ্ধবিরতি চলছে, যুদ্ধ কিন্তু শেষ হয়নি। যত দিন ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না করা হবে- যুদ্ধ চলবে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights