ট্রাম্পকে অপদস্থ করতে চায় ইরান: বিশ্লেষক

অনলাইন ডেস্ক

ইরান যুদ্ধে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যার পেছনে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক।

বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্টাই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ঘোষিত কোনও সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা যায়নি এবং দেশটির সরকারও এখনও ক্ষমতায় রয়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পুস্টাই বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ এখন মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে ট্রাম্পকে অন্তত কিছু ‘সীমিত সাফল্য’ দেখাতে হবে।

তার মতে, “ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য এখন ঘরোয়া রাজনীতি। কিন্তু ইরান চায় ঠিক এর বিপরীতটি- তারা ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও অপদস্থ করতে চায়।”

বিশ্লেষকের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কোনও বড় লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। ফলে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই দুই দেশই অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের অধিকারী। হামলার শুরুতেই ইরানের বহু সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এতে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এছাড়াও স্কুলে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৭০ শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়। যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা দেশ।

তবে চুপ করে বসে থাকেনি ইরানও। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় তেহরান। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয় বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা। ফলে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি।

টানা ৩৯ দিন ধরে এই যুদ্ধ চলে। অবশেষে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসে দুই দেশ। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপর অনেকটা এক তরফাভাবেই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি শান্তি প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে দুই পক্ষ। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অচলাবস্থার অবসান হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights