ইরানে আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের শুরুর পর্যায়ে একটি চমকপ্রদ পরিকল্পনা ছিল—সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে আবার দেশের নেতৃত্বে বসানো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই পরিকল্পনা করেছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দাবি করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ ও ‘এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযানের একটি লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান শাসন পরিবর্তন করে এমন কাউকে সামনে আনা, যিনি নতুন নেতৃত্ব দিতে পারবেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, আহমাদিনেজাদ ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সামরিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা আহমাদিনেজাদ দীর্ঘদিন ধরেই কট্টর ইসরায়েলবিরোধী ও আমেরিকাবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তবে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তিনি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সমালোচক হয়ে ওঠেন। ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৪ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে তেহরানে তার বাড়িতে যে হামলা হয়, সেটি তাকে হত্যা করার জন্য নয়, বরং ‘মুক্ত করার’ চেষ্টা ছিল। একটি সূত্র বলেছে, আহমাদিনেজাদ নিজেও ওই হামলাকে ‘কারাগার ভাঙার প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখেছিলেন। হামলায় তিনি আহত হন, এরপর থেকেই তার অবস্থান অজানা। যদিও মাঝে মধ্যে তিনি সংক্ষিপ্ত কিছু বার্তা দিয়েছেন।

এই পরিকল্পনাটি মূলত ইসরায়েলের দিক থেকে শুরু হয়েছিল এবং আহমাদিনেজাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপও করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে হামলায় আহত হওয়ার পর পুরো পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। তার বর্তমান অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরাসরি কিছু বলতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক ঘাঁটি ও নৌ শক্তি ধ্বংস করা এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আহমাদিনেজাদের মতো একজন বিতর্কিত নেতাকে সামনে আনার চিন্তা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তিনি একসময় ইসরায়েলকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জোরালো সমর্থক ছিলেন।

মজার বিষয়, অতীতে তিনি ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলেছিলেন। তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরিকল্পনা দেখায়, ইরান যুদ্ধে শুধু সামরিক নয়, বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার চিন্তাও ছিল। যদিও বাস্তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং এখনো এই পুরো ঘটনার অনেক দিকই স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights