শুকনা মরিচে বাজিমাত
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
বগুড়ার যমুনাঘেঁষা চরগুলোর দিকে তাকালে মনে হবে যেন লাল রঙের এক সমুদ্র। বাড়ির উঠান, বাঁধ, বালুচর সবখানেই লাল। এই লাল শুকনা মরিচের। শুকাতে দেওয়া মরিচের রং এটি। চরগুলোতে এখন চলছে মরিচ শুকানো, ওল্টানো, বাছাই ও বস্তাবন্দি করার কাজ। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলগুলোর বিশেষ খ্যাতি আছে মরিচ আবাদের জন্য। প্রতি বছরই ব্যাপক মরিচ চাষ হয়। বিশেষ করে সারিয়াকান্দি। এই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লাল মরিচ উৎপন্ন হয়। উৎপাদিত এই মরিচের বেশি অংশ শুকানোর পর চলে যায় দেশের বিভিন্ন মসলা প্রস্তুকারী কোম্পানিতে। এই মরিচের রং এবং ঝাল বেশি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। যার কারণে কোম্পানিগুলো মরিচ কেনার জন্য প্রতিনিধির মাধ্যমে মৌসুমের শুরু থেকেই তৎপরতা চালাতে থাকে। মরিচ সংগ্রহর জন্য চরগুলোতে প্রতিনিয়ত যাচ্ছে ফুড প্রোসেসিং কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এবার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে ১৯ হাজার ৮৭৬ টনের বেশি মরিচ উৎপাদন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব বলছে, প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষে গড়ে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। অনুকূল আবহাওয়ায় বিঘাপ্রতি ফলন হয় ৮ থেকে ৯ মণ। বাজারে প্রতি মণ ৯-১২ হাজার টাকায় বিক্রি হলে বিঘাপ্রতি সম্ভাব্য লাভ দাঁড়ায় ৩০-৪০ হাজার টাকা। তবে কৃষকদের ভাষ্য, বাস্তবে এই হিসাব সবসময় মেলে না। কারণ উৎপাদন খরচের বড় অংশ চলে যায় হাইব্রিড বীজে, যার দাম কেজিপ্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে যোগ হয় সার, কীটনাশক, শ্রম ও সেচ খরচ। ফলে প্রকৃত ব্যয় অনেক সময় সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। বগুড়া কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে বগুড়ায় ৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। যার ৮০ ভাগ চাষ করা হয়েছে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৮২০ হেক্টর এবং উফশী ১ হাজার ৭২০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে ১৫ দশমিক ৬ মেট্রিক টন মরিচের উৎপাদন ধরে উৎপাদিত মরিচের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৩ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুকনা মরিচরে পরিমাণ ২০ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন। প্রতি মণ মরিচের দাম সর্বনিম্ন ৯ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা ধরলে উৎপাদিত শুকনা মরিচের মূল্য দাঁড়ায় ৬০০ কোটি টাকার ওপরে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, বগুড়ার লাল মরিচ দেশজুড়ে বিখ্যাত। স্থানীয়ভাবে এ মরিচ ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়। অবশিষ্ট মরিচ দেশজুড়ে ও দেশের বাইরে ব্যবহার হয়ে থাকে।
