ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় শিশুসহ অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক

ইসরায়েলি বিমান হামলায় উত্তর গাজায় চারজন শিশুসহ অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই এই হামলা অব্যাহত রেখেছে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি মানুষ।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলার সময় বেশ কয়েকটি শিশু কাছাকাছি একটি পার্কে খেলছিল। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানোর ভয়ে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ঘর বা তাঁবু ছেড়ে বের হতে চাইছেন না। এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ-এর জানাজায় শতশত ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ইসরায়েলি এক হামলায় তিনি নিহত হন। ইসরায়েল হামাসের উচ্চপদস্থ নেতাদের অবশিষ্ট অংশকে নির্মূল করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা সিটিতে চালানো সেই হামলায় ওদেহের স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হন।

এদিকে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক এবং বাস্তবতাবিবর্জিত আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয়ের সঙ্গে ইসরায়েল তাদের সম্পর্ক স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ধর্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের যৌন সহিংসতার একাধিক প্রতিবেদন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জাতিসংঘ এই পদক্ষেপ নিল। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই কালো তালিকায় বিশেষভাবে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে (আইপিএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য ইসরায়েলি সংস্থাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির জন্য নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights