নওগাঁয় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ
নওগাঁ প্রতিনিধি
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নওগাঁ জেলা শাখার সদস্য সচিবসহ দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
শোকজপ্রাপ্ত দুই নেতা হলেন—নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার তারিকুল ইসলাম দীপু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ অবস্থায় কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
তবে নোটিশে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ বলেন, তাকে ঠিক কী কারণে শোকজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি এখনও অবগত নন।
তিনি বলেন, “ধারণা করছি, নওগাঁ জেলার একজন কেন্দ্রীয় নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রেখে তার পছন্দের কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।”
সোহাগ আরও অভিযোগ করেন, “আমি সবসময় যোগ্য নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে এবং অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর বিরোধিতা করেছি। সেই অবস্থানের কারণেই ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছি। চাঁদাবাজি বা মামলা-বাণিজ্যের মতো কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। ফলে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছাড়া অন্য কোনো কারণ দেখছি না।”
তিনি দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির সময় থেকেই তিনি ও সদস্য সচিব তারিকুল ইসলাম দীপু নওগাঁয় সংগঠন গড়ে তুলতে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরাই জেলার এনসিপিকে সংগঠিত করেছি। অথচ আজ আমাদেরই শোকজ করা হলো।”
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় নেতার নাম প্রকাশ করেননি সোহাগ।
