ভিনিসিয়ুসের প্রতিভা কী ব্রাজিলিয়ান দুর্বলতাগুলোকে কেবল ঢেকে রেখেছে?
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে হার এড়ালেও ব্রাজিলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই আলোচনা-ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ প্রতিভা কি ব্রাজিলের দুর্বলতাগুলোকে কেবল আড়াল করে রাখছে?
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ভিনিসিয়ুস বলেছিলেন, তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হতে আসেননি, বরং ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে এসেছেন। মাঠে নেমে সেই কথারই প্রতিফলন ঘটান তিনি।
নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে চাপে ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পুরো ম্যাচেই মরক্কো ছিল বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরান ভিনিসিয়ুস।
ব্রুনো গুইমারেসের পাস থেকে বাম দিক দিয়ে বল পেয়ে দ্রুত ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপের মঞ্চে উপভোগ্য এক গোল করে দলকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি।
ভিনিসিয়ুসের সেই গোল ব্রাজিলকে ১৯৩৪ সালের পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথম হারের লজ্জা থেকে বাঁচালেও জয় এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেক বিশ্লেষক। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার ব্রাজিলের খেলাকে “অগোছালো” বলে মন্তব্য করেন।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশ্লেষক টিম ভিকেরির মতে, একটি আদর্শ দলের ক্ষেত্রে দলই তারকা খেলোয়াড় তৈরি করে। কিন্তু ব্রাজিলের ক্ষেত্রে যেন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, “এখানে মনে হচ্ছে তারকাই দলকে বাঁচিয়েছে।”
একটি ম্যাচের ফলাফল হয়তো ব্রাজিলের বিশ্বকাপের হেক্সা মিশনের স্বপ্নকে নাড়া দেবে না, কিন্তু মরক্কোর বিপক্ষে অগোছালো পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দলটির এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। আর সেই ঘাটতি ঢাকতে আপাতত ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
আগামী ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়ায় তাদের পরবর্তী ম্যাচ হাইতির বিপক্ষে এবং এরপর ২৪ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
সূত্র : আল জাজিরা
