নজর থাকবে জিদানপুত্রের দিকে

মো. ইমরুল হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি, বাফুফে

সমর্থনে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাতেই বিভক্ত বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা। মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিল মাঠে নামার দিনই আসলে আমাদের দেশে বিশ্বকাপের প্রকৃত উন্মাদনাটা শুরু হয়েছে। পূর্ণতা পাবে আগামীকাল সকালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ম্যাচের পর। কাগজে-কলমে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সহজ গ্রুপগুলোর একটিতেই পড়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ইতালি, ব্রাজিলের পর টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনার মানসপটে নিশ্চিতভাবেই ২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে পরাজয়ের স্মৃতি উঁকি দেবে। তাই আমার মনে হয়, বাড়তি সতর্কতা নিয়ে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তরা। ৪০ ছুঁইছুঁই বয়স হলেও লিওনেল মেসির কার্যকারিতাই আর্জেন্টিনার মূল শক্তি। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় তাঁর চোটে পড়া কিছুটা দুঃশ্চিন্তায় ফেলবে স্কালেনিকে। দলের মূল খেলোয়াড়দের বয়স বেশি, এটি হতে পারে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো আনহেল দি মারিয়ার মতো কার্যকরী কেউ নেই এ দলে। থিয়াগো আলমাদাকে হয়তো সেই ভূমিকায় দেখা যেতে পারে শেষ পর্যন্ত। মধ্য মাঠে স্কালেনিকে নির্ভরতা দিতে ম্যাক অ্যালিস্টার-রদ্রিগো দি পল-এনজো ফার্নান্দেজ ত্রয়ীকে জ্বলে উঠতে হবে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে। এক সময়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগে উল্লেখযোগ্য নতুন কেউ না থাকায় ওতামেন্দী, নাহুয়েল মলিনা, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ কিংবা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে।

১৯৮২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা আলজেরিয়ার এটা পঞ্চম অংশগ্রহণ। আলজেরিয়ার নিকট ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ আক্ষেপ হয়ে থাকবে অনেক দিন। তিনটি ম্যাচের দুটিতে জিতেও তাদের বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। ফিফার অদূরদর্শিতায় গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে না হওয়ায় পশ্চিম জার্মানি আর অস্ট্রিয়া আপোসে খেলে আলজেরিয়াকে গোল ব্যবধানে বিদায় করে নিজেরা উঠে যায় পরবর্তী রাউন্ডে। খোদ জার্মান সমর্থকদের কাছেও এ ম্যাচটি ‘Schande von Gijon’ বা গিওনের লজ্জা’ নামে পরিচিত। সেবার না পারলেও ২০১৪ সালে ঠিকই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে আলজেরিয়া। ২০২৪ সালে কোচের দায়িত্ব নেওয়া বসনিয়ান ভ্লাদিমির পেতকোভিচ ধীরে ধীরে দলকে গুছিয়ে নিয়েছেন। দলটির সবচেয়ে বড় ভরসার নাম রিয়াদ মাহরেজ। ২০১৪ সালে মাত্র এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও এবার অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড থাকছে তার কাছেই। জিদানপুত্র লুকা জিদানের ওপরও নজর থাকবে অনেকের। গ্রুপে অবস্থান যাই হোক না কেন তাদের চিরকালীন আক্ষেপ ঘুচবে যদি অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারে। ইতঃপূর্বে এ দুটো দেশ একবারই শুধু মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৭ সালে এক প্রীতি ম্যাচে, আর্জেন্টিনা জিতেছিল ৪-৩ গোলে। লিওনেল মেসি দুটি গোল করেছিলেন। আমার কাছে মনে হয়, আগামীকাল খেলায় অনেকটা অনায়াসে জয়লাভ করবে স্কালেনির দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights