কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি: পানি কমার সাথে সাথে ৪২ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি দ্রুত কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। একইসঙ্গে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে প্রায় ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় জানায়, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি ৭০-৮০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

গত পাঁচ দিনে জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাটের রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়া এলাকার ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার তিনটি স্থানে ধস ও অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, নদ-নদীর পানি কমায় নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৪২টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া নতুন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রস্তাব পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের খেত আক্রান্ত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ায় এসব জমির অধিকাংশ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পাট, আউশ ও কিছু আমনের বীজতলা রক্ষা পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights