বগুড়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনি হাওয়া

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সরকারি ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছে বগুড়ার রাজনৈতিকপাড়া। এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না এমন ঘোষণাও এসেছে। ফলে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগাম প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিও প্রার্থী হওয়ার আশায় প্রচার-প্রচারণা করছেন। মাঠ চাঙা রাখতে প্রার্থীরা বিভিন্ন সভাসমাবেশ করছেন। এদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি একক প্রার্থী দেওয়ার কথা বললেও একাধিক প্রার্থী হতে দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা মুখিয়ে আছেন। এ ছাড়া দলীয় প্রতীক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বগুড়ার রাজনৈতিকপাড়ায় বইছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনেই বড় জয় পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একক আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে বিএনপি। অন্যদিকে শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে বিভিন্ন এলাকায় আগাম প্রার্থী দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলের বিভিন্ন কর্মকা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে জামায়াতের মহিলা শাখার নেতৃবৃন্দ গণসংযোগ করছেন নানা কৌশলে।

এদিকে বগুড়ার ভোটাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজছেন। কাকে নির্বাচিত করলে এলাকার উন্নয়ন এবং উৎপাদনের ধারা অব্যাহত থাকবে, তা ভেবে দেখছেন তারা। জানা গেছে, বগুড়ার রাজনৈতিকপাড়ার নেতা-কর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পর থেকে প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। তারা ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। শহর থেকে শুরু করে পাড়ামহল্লার চায়ের টেবিলে চলছে নির্বাচনি আলোচনা। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উন্নয়নের ফুলঝুরি নিয়ে বিভিন্ন সভাসমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাে অনুদান প্রদানসহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সুখে-দুঃখে পাশে থাকার। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরকারের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন সভাসমাবেশ করে।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহীন জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। দলীয় নেতা-কর্মীসহ এলাকাবাসী চাইলে আমি নিজেও প্রার্থী হতে পারি।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, বিএনপি বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে সাজানো-গোছানো সংগঠন রয়েছে। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দিলে যেকোনো সময় বগুড়ার ১৩টি উপজেলায় দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে বিএনপি। নির্দেশনা পেলে আমি নিজেও নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ অধিশাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা এলে নির্বাচন কমিশন তা আয়োজনে প্রস্তুত রয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে নির্বাচন কমিশন। বগুড়ায় ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে জেলায় হালনাগাদ তালিকায় নতুন ভোটার যোগ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৩৫ জন। অন্যদিকে গল্প-আড্ডায় ভোটাররা করছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ। তারা বলছেন, যারা এলাকার উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করবেন, সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়াবেন তাদেরই বেছে নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights