খামেনির শোকমিছিলে লাখ লাখ মানুষ
প্রতিদিন ডেস্ক
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিজনসমাগমের দিক থেকে সব রেকর্ড ভেঙে লাখ লাখ মানুষ গতকাল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকমিছিলে অংশ নিয়েছে। এ জনসমুদ্র চার দশক আগে খামেনির পূর্বসূরির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। ইরানের রাজধানী তেহরানের সব এলাকায় এদিন শুধু মানুষ আর মানুষ দেখা গেছে। শোকার্ত মানুষ এ মিছিল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানান। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুই দিন রাখা খামেনির লাশ গতকাল মিছিলের জন্য জনসমাগমে নিয়ে আসা হয়। এ সময় কফিন ফুলের পাপড়িতে ঢেকে যায়। সাবেক সর্বোচ্চ নেতাকে স্মরণ করতে এ দিন পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে পড়ে এবং তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়। শোকগ্রস্ত জনতা ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পতাকার পাশাপাশি প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা ওড়ায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, পূর্ব তেহরানের ইমাম হোসাইন স্কয়ারে জড়ো হয়ে অনেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুতুল দাহ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকেও এ মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শোকাকুল জনতার শরীর শীতল করতে ট্রাক থেকে পানি ছিটানো হয়। পাশাপাশি আয়োজকরা ইরানের পতাকা এবং আলী খামেনি ও মোজতবা খামেনির ছবি বিতরণ করেন। প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দীর্ঘ পথজুড়ে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, রবিবার খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লাখ লাখ মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হন। হুড়োহুড়ি ও পদদলন ঠেকাতে সেখানে বিশাল কংক্রিটের দেয়াল দিয়ে কফিন ও সাধারণ মানুষকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। কারণ ১৯৮৯ সালে অতি উত্তেজিত জনতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির লাশ বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়লে কাফনের কাপড় ছিঁড়ে লাশ মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। পরে হেলিকপ্টারে করে তাঁর লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার সতর্ক অবস্থানে থাকে প্রশাসন। আজ ধর্মীয় কেন্দ্র কোম নগরীতে এবং আগামীকাল ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় অনুরূপ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ নগরীতে খামেনির নিজ জন্মভূমিতে দাফনের মধ্য দিয়ে এ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
