ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, ব্যাপক বিস্ফোরণ

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে বেসামরিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ‘শক্তিশালী হামলা’ চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম দাবি করে, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরীহ বেসামরিক নাবিকবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য ইরানকে ‘কঠোর মূল্য’ দিতে হবে। সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবেই এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইরানের হামলা ছিল ‘অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

সেন্টকম আরও দাবি করেছে, ইরানের ধারাবাহিক পদক্ষেপ এবং সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বিগ্ন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা অভিযানের পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সর্বশেষ হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, উপকূলীয় নজরদারি ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, এই অভিযান ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ এবং এটি দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ ইরান অস্বীকারও করেনি কিংবা নিশ্চিতও করেনি। তবে মার্কিন বাহিনীর এই হামলার পর দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং ফার্স সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও সিরিক বন্দরের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী কেশম দ্বীপে অন্তত ছয়টি এবং সিরিক বন্দরের কাছে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এছাড়া ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি এর আগে সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের তেল রপ্তানির জন্য দেওয়া একটি নিষেধাজ্ঞা-ছাড় প্রত্যাহার করেছে। ফলে দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি এই হামলা ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বড় হুমকিতে ফেলল। ফলে চলমান শান্তি আলোচনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলা ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা, এপি, সিএনএন, রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights