‘স্পেন নাকি বেলজিয়াম: প্রতিপক্ষ কে, তা নিয়ে ভাবছি না’

স্পোর্টস ডেস্ক

মরক্কোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের কণ্ঠে ঝরল চরম আত্মবিশ্বাস। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে—স্পেন নাকি বেলজিয়াম, তা নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, সেমিফাইনালের মঞ্চে কোনো ম্যাচই সহজ হবে না, তাই প্রতিপক্ষ হিসেবে কে সামনে আসছে তা তার কাছে কোনো বিষয় নয়। ফরাসি শিবিরের লক্ষ্য কেবল সামনের ম্যাচটি জিতে ফাইনালে পা রাখা।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এমবাপ্পে মাঠের খেলার পাশাপাশি দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেকে একজন মানসিক নেতা হিসেবেও তুলে ধরছেন। দলের তরুণ সদস্যরা তাকে অভিজ্ঞ অগ্রজ হিসেবে দেখেন উল্লেখ করে ফরাসি অধিনায়ক বলেন, দলে অনেক পুরোনো বন্ধুর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার রয়েছেন। মাঠে ফুটবলীয় দক্ষতার বাইরেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং বিশ্বকাপে খেলার যে বিপুল অভিজ্ঞতা তার রয়েছে, তা তিনি সতীর্থদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান। তরুণদের মানসিকভাবে চাঙা রাখা এবং মাঠের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে উদাহরণ তৈরি করাকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার বিষয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আশ্বস্ত করেছেন এমবাপ্পে। চোটটি গুরুতর নয় দাবি করে তিনি জানান, শেষ ১৫ মিনিটে তার চেয়ে মাতেতা বেশি সতেজ থাকায় তাকে মাঠে নামানো হয়েছিল। এমবাপ্পে স্পষ্ট করে বলেছেন, সেমিফাইনালে উঠে তারা আনন্দিত হলেও এখনো আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন না। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে এবং ট্রফি না জেতা পর্যন্ত উদযাপনের কোনো সুযোগ নেই।

ম্যাচটিতে পিএসজির সাবেক সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফ হাকিমির মরক্কোকে বিদায় করা প্রসঙ্গে কিছুটা আবেগপ্রবণ শোনালো ফরাসি তারকাকে। তিনি বলেন, মাঠের ভেতরে পেশাদারত্বের জায়গায় কোনো আবেগের স্থান নেই, সেখানে দুজনেই নিজ দেশের জয়ের জন্য লড়েছেন। তবে মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুমে যখন আবার বন্ধুর মুখোমুখি হবেন, তখন বিষয়টি তাকে কিছুটা হলেও স্পর্শ করবে।

সবশেষে ২০১৮ সালের বিশ্বজয়ী ফ্রান্স দলের সঙ্গে বর্তমান দলটির তুলনামূলক শক্তিমত্তার প্রশ্নে বেশ বাস্তববাদী উত্তর দেন এমবাপ্পে। বর্তমান দলটিকে এখনই সেরার তকমা দিতে নারাজ এই তারকা। তার মতে, এই দলটির সম্ভাবনা ও প্রতিভা প্রচুর, যা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা জাগায়। তবে ২০১৮ সালের দলটি ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ট্রফি না জেতা পর্যন্ত কোনো দলকেই সেরা বলা যায় না, কারণ মাঠের সাফল্যই শেষ কথা বলে।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights