ঘোর বর্ষায়ও পানির আকাল বড়াল ও নারদ নদে
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
বাংলাদেশের হেন কোনো নদনদী নেই, যা গতকাল পানিতে টইটম্বুর হয়নি। পানির অবস্থা এমন যে এক তীর থেকে অন্য তীর দেখা যায় না। তবে গতকাল ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে রাজশাহীর পদ্মার শাখা বড়াল ও নারদ নদে। প্রায় শুকনো এই দুই নদ। জেলার হোজা ও মুসাখান নদেরও একই চিত্র। স্থানীয়রা বলছেন, নদনদীগুলো খনন হলেও নেই সুফল। পানি না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে বিলীন হয়ে নদীগুলো পরিণত হয়েছে মরা খালে। পানির প্রবাহ বন্ধ থাকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। পুঠিয়ার মনিরুল ইসলাম বলেন, জোর যার মুল্লুক তার, তেমনি প্রভাব যার নদী তার। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইচ্ছামতো বাঁধ দিয়েছে। এতে নদী খালে পরিণত হয়েছে। নদীর পানি দিয়ে এখন আর কৃষিকাজ হয় না। রাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা থেকে উৎপত্তি বড়ালের। অন্যদিকে মুসাখান নদের উৎপত্তি বড়াল থেকে। আর নাটোরের পাইকপাড়ায় মুসাখান নদ থেকে নারদ যুক্ত হয়েছে পদ্মার সঙ্গে। জানা গেছে গত বছর রাজশাহীর বড়াল নদ বাঁচাতে চারঘাটের স্লুইসগেট অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। পরে খুলে নেওয়া হয় তিনটি কপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই পদক্ষেপে কোনো লাভই হয়নি। বর্ষা মৌসুমেও পানি নেই এসব নদনদীতে। এর আগে ২০২৪ সালে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে বড়ালের উৎসমুখে খনন করা হলেও শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই নদীটি মৃত প্রায়। বড়ালের সঙ্গে যুক্ত হোজা ও মুসাখান নদীরও একই অবস্থা। ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার আরেক শাখা নারদ নদের ৩৪ কিলোমিটার খনন করেছিল বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সেই নদেও পানি নেই। মেলে না সেচসুবিধা। এর ওপর অন্তত ২০টি স্থানে বাঁধও দিয়েছিলেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বানেশ্বর এলাকার বাসিন্দা মুকুল বলেন, সরকারি টাকা তছরুপ করতেই এই প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়। যা নদনদীর কোনো কাজে আসে না। এসব বিষয়ে বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল পদ্মা থেকে পানি এসব শাখা নদীতে নিতে প্রকল্প নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। বড় অঙ্কের টাকা ব্যয়ে এসব নদনদীতে প্রকল্প নেওয়া হলেও সুফল মেলেনি।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, নদনদীগুলোর নাব্য ফেরাতে ৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের খনন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সারা বছর পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।
