‘ডোনাল্ড ট্রাম্পে’ আগ্রহ চিড়িয়াখানায়
প্রতিদিন ডেস্ক
কোরবানি হওয়ার হাত থেকে বেঁচে ফেরা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের আলোচিত মহিষ এখন রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায়। ঈদের ছুটিতে সেই আলোচিত মহিষটি দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় থাকছে চিড়িয়াখানার এল-৭ নম্বর ব্লকের সামনে। চিড়িয়াখানায় রাখা বাঘ-সিংহের আকর্ষণকেও হার মানিয়েছে মহিষটি। প্রতিদিনই প্রচুর দর্শনার্থী মহিষটি দেখতে খাঁচার সামনে ভিড় করছেন। বাদ যাচ্ছে না বিদেশিরাও।
সেই ভিড় ঠেলে কেউ সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার দূর থেকেই মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। গতকালও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বড়দের পাশাপাশি ছোট্ট শিশুরাও আবদার করছেন এই আলোচিত মহিষটি দেখার জন্য। মহিষটিকে ঘিরে অতিরিক্ত জনসমাগম ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ হস্তক্ষেপে ক্রেতার কাছ থেকে মহিষটি ফেরত নিয়ে আসা হয়। ঈদের আগের রাতেই জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে আলোচিত এই মহিষের কারণে চাকরি হারাতে বসেছেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান। ইতোমধ্যেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আলোচিত মহিষটিকে রাখার স্থানে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামফলক টাঙিয়ে মূলত বিপাকে পড়েছেন এই কর্মকর্তা। ছুটির মধ্যেই শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়। পরে নতুন কিউরেটর নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অসদাচরণের অভিযোগ কী কারণে আনা হয়েছে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, বিষয়টি এমনিতেই ভাইরাল। আবার একটা দেশের রাষ্ট্রপতির নামে সরকারিভাবে মহিষের নামফলক প্রদর্শন করাটা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি কর্তৃপক্ষের কাছে। নামের বানানও ভুল ছিল। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের জনপ্রিয় পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের খবরের ভিত্তিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর চিত্র তুলে ধরা হলো-
সিলেট : প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল আজহার ছুটিতে লাখো পর্যটকের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেট। পর্যটন ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষ হলেও চলতি সপ্তাহজুড়ে সিলেটে পর্যটকরা থাকবেন। অনুকূল আবহাওয়া ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থার কারণে এবার পর্যটক সমাগম বেড়েছে। সিলেটে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকে জাফলং ও সাদাপাথর। পাশাপাশি তারা অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও ছুটে যান। সিলেট ভ্রমণ শেষে অনেকে সুনামগঞ্জ টাঙ্গুয়ার হাওড় কিংবা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত স্পটগুলো দেখে তবেই বাড়ির পথ ধরেন। নগরীর জিন্দাবাজারের হোটেল গোল্ডেন সিটির মহাব্যবস্থাপক মলয় দত্ত মিষ্টু জানান, অন্যান্য বছর ঈদের ছুটিতে দুই-তিন দিন ‘হাউসফুল গেস্ট’ থাকেন। এবার হাউসফুল না হলেও প্রচুরসংখ্যক পর্যটক এসেছেন। তারা সিলেটে অবস্থানও করছেন অন্যবারের তুলনায় বেশি। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এ টি এম শোয়েব আহমদ জানান, লম্বা ছুটি থাকায় সিলেটে গেল কয়েক বছর থেকে এবার বেশি পর্যটক সমাগম হয়েছে। এবার ছুটিতে প্রচুরসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকজন সিলেট বেড়াতে এসেছেন।
চট্টগ্রাম : নগর ও জেলার প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্র এখন দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর। ঈদের পরদিন থেকেই বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শনার্থীদের এই ব্যাপক আগমন ঘিরে তিনস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ স্থবিরতার পর দর্শনার্থীদের এই উপচে পড়া ভিড়ে বিনোদনকেন্দ্রগুলো যেন নতুন জীবন পেয়েছে। জানা গেছে, ঈদের পরদিন থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, আনোয়ারা পারকি সৈকত, কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড, ডিসি পার্ক, কর্ণফুলী টানেল, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশুপার্ক, সীতাকুন্ড ইকো পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, মহামায়া লেক, খৈয়াছড়া ও নাপিত্তাছড়া ঝরনা, পতেঙ্গা নেভালসহ অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে। এই সৈকতের পাশেই রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের একমাত্র টানেল, যা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ফয়’স লেকে মানুষের চিরন্তন কৌতূহল রয়েছে। পাহাড় ও লেকবেষ্টিত এই পার্কে ঈদের পরদিন থেকে ব্যাপক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পার্কের সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, কফিকাপ, রেড ড্রাইল্লাইড, ইয়োলো ড্রাই-স্লাইড ও বাগস বানির মতো রাইডগুলো শিশু-কিশোরদের প্রধান আকর্ষণ। লেকের দুই পাশে রয়েছে সারি সারি পাহাড় আর হরেক রকম গাছপালা। এ ছাড়া লেকের গা-ঘেঁষেই সামুদ্রিক প্রাণীদের ভাস্কর্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পিকনিক স্পট ‘অ্যাকুয়াটিক জোন’। ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ঈদের পরদিন থেকে এখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কক্সবাজার : ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। আনন্দ, হইহুল্লোড় আর সাগরের নোনাজলে মাতোয়ারা ভ্রমণপিপাসুরা। সাগরতীর যেন হয়ে উঠেছে সব বয়সি মানুষের মিলনমেলা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে লাইফ গার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচকর্মীরা। ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াডের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), মোবাইল টিম ও স্ট্যান্ডবাই টিম কাজ করছে। সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পর্যটকরা ঘুরে দেখছেন কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় ও বিনোদনকেন্দ্রও। গত তিন দিনে অন্তত তিন লাখ পর্যটক বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সমুদ্রস্নান, পাহাড়-ঝরনা, মেরিন ড্রাইভ ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। পর্যটকদের পদচারণে সরগরম হয়ে উঠেছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের আট দিনের ছুটিতে প্রায় সাত লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন। এর মধ্যে গত তিন দিনে অন্তত তিন লাখ পর্যটক এসেছেন। আগামী ৬ জুন পর্যন্ত পর্যটকের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
