একক সিদ্ধান্তে বালোগানের শাস্তি মওকুফ করেন ফিফা সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। যৌথ আয়োজক হিসেবে কানাডা ও মেক্সিকোর নাম থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবারের বিশ্বকাপে দল বেশি, ম্যাচ বেশি; বিতর্কও বেশি। মাঠে হাইড্রেশন ব্রেক, রেফারিং আর ভিএআর নিয়ে বিতর্ক তো নিত্যদিনের। এছাড়া, ফিফার প্যানেলে থাকার পরও সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুল কাদির আরতানকে ঢুকতে না দেওয়া, ইরানের খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে বাধ্য করার মত ঘটনাও এবারের বিশ্বকাপকে বিতর্কিত করেছে। তবে সব বিতর্ককে ছাপিয়ে গেছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ফোনে বদলে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের শাস্তি। এখন জানা যাচ্ছে, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভাপতি একাই নিয়েছিলেন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত। এমনকি কমিটির কারো সঙ্গে পরামর্শও করেননি তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেলিফোনে শাস্তি স্থগিতের একক সিদ্ধান্তও অস্বাভাবিক।

রাউন্ড অব ৩২তে বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬এর ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ ছিল না তার। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টেলিফোনেই বদলে যায় সবকিছু। ট্রাম্প তার বন্ধু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে দেরি করেনননি ইনিফান্তিনো।

ফিফার গভর্নিং বডি বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। প্রথমে বলা হয়েছিল গভনিং বডি স্বাধীনভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে, সেই স্বাধীনভাবে নেয়া সিদ্ধান্তটা ছিল একজন ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত। আর তিনি হলেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালি। ১৮ সদস্যের ডিসিপ্লিনারি কমিটির অন্য কোনো সদস্যের সাথে এ ব্যাপারে তিনি পরামর্শও করেননি।

এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান কামালি, ডেপুটি চেয়ারম্যান হোর্হে প্যালাসিও এবং কমিটির অন্য একজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি নিয়ে থাকে। আর ডিসিপ্লিনারি কোনো বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে হলে, তা সাধারণত প্যালাসিও নিয়ে থাকেন। কিন্তু বালোগানের ক্ষেত্রে সবকিছুই ছিল ব্যতিক্রমী।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। তার মধ্যে ১২ জনই তাদের ম্যাচ না খেলার শাস্তি ভোগ করেছেন বা করবেন। বালোগানই একমাত্র সৌভাগ্যবান, যিনি লাল কার্ড দেখার পরের ম্যাচেও খেলতে পেরেছিলেন। অবশ্য তাতে লাভ হয়নি। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে রাউন্ড অব ১৬এই থেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের পথচলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights