গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই স্পেনের ‘নিঃশব্দ নায়ক’ রদ্রি
স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-০ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এমন একজন, যার নাম গোলদাতা কিংবা অ্যাসিস্টদাতার তালিকায় নেই। তিনি স্পেনের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি।
ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে পুরো ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল রদ্রির দখলে। নিখুঁত পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি স্পেনের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন। মাঠে যেন তিনিই ছিলেন স্পেনের খেলার ছন্দের নিয়ন্ত্রক।
অপটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬৫৫টি সফল পাস দিয়েছেন রদ্রি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো ফুটবলারের এত বেশি সফল পাসের রেকর্ড নেই। এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের মতো তারকাদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের মাঝমাঠ। রদ্রিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রক্ষণ ও বল নিয়ন্ত্রণের কৌশলের সামনে বারবার ব্যর্থ হয় ফরাসিরা।
রদ্রির সঙ্গে এমেরিক লাপোর্তে ও পাও কুবার্সির সমন্বয়ে এমন শক্ত রক্ষণ গড়ে ওঠে যে পুরো ম্যাচে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে একবারও সেভ করতে হয়নি। সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে এমন পরিসংখ্যান স্পেনের আধিপত্যই তুলে ধরে।
মাত্র দুই বছর আগে গুরুতর হাঁটুর চোটে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল রদ্রিকে। সেই কঠিন সময় কাটিয়ে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে নিজের সেরাটা উপহার দিচ্ছেন তিনি।
ফাইনালে ওঠার পর রদ্রি বলেন,‘আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি। সবাই খুব খুশি, কিন্তু কাজ এখনও শেষ হয়নি। শান্ত থাকতে হবে এবং পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ গড়ার কাজেও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রদ্রি। তাঁর পাসে বদলে যায় খেলার গতি, তৈরি হয় নতুন আক্রমণের সুযোগ। পুরো ম্যাচে ১২.৫ কিলোমিটারের বেশি দৌড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, আধুনিক ফুটবলে একজন মিডফিল্ডারের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে।
ফাইনালের আগে স্পেনের কৌশল নিয়েও কথা বলেন রদ্রি। তাঁর ভাষায়,‘আমরা জানতাম দুই দলের খেলার ধরন আলাদা। ওরা দ্রুত আক্রমণে ভরসা করে, আর আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাই। পুরো দল পরিকল্পনাটা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে।’
