১৯৬৬’র পুনরাবৃত্তির খোঁজে ইংল্যান্ড
অনলাইন ডেস্ক
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের অমর করে রাখার সবচেয়ে বড় সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আজ রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে থ্রি লায়ন্সরা। গত ছয় দশকে ইংল্যান্ড কেবল দুইবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছিল ১৯৯০ এবং সবশেষ ২০১৮ সালে। তবে এবারের লড়াইটি কেবল ফাইনালে ওঠার নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পুরোনো ও রোমাঞ্চকর এক দ্বৈরথ।
টানা দুটি ইউরো ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সইতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। তবে এবার নতুন কোচ টমাস টুখেলের অধীনে ইতিহাস নতুন করে লিখতে মরিয়া হ্যারি কেইনরা। টুখেলের প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে এই ম্যাচটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে কতটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে এবং ২০২১ সালে ঘরের মাঠে ইতালির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর এবার আক্ষেপের দল তকমাটি ঘোচাতে চায় ইংল্যান্ড। ২০২৪ সালের ইউরো ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর এবার বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত তারা। কোচ থমাস টুখেল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে অসাধারণ শক্তি ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে এবং তারা পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার এই লড়াই কেবল মাঠের ফুটবল নয়, বরং গত ৬০ বছরের নানা বিতর্ক ও আবেগের এক মহাকাব্য। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিনের বিতর্কিত লাল কার্ড এবং ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড ম্যানেজার স্যার আলফ রামসের মন্তব্যের পর থেকেই এই শত্রুতার শুরু। এরপর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ফকল্যান্ড যুদ্ধের পটভূমিতে ডিয়াগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং সেই জাদুকরী দ্বিতীয় গোল ফুটবল ইতিহাসের অমর অংশ হয়ে আছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডের ট্র্যাজেডি এবং ২০০২ সালে সেই বেকহ্যামেরই পেনাল্টি থেকে গোল করে প্রতিশোধ নেওয়ার ইতিহাস আজও দর্শকদের মনে তাজা। আর্জেন্টিনা বস লিওনেল স্কালোনিও স্বীকার করেছেন, অতীতের এই ইতিহাস ম্যাচটিকে দারুণ আবেগঘন করে তোলে।
এই ম্যাচের অন্যতম মূল আকর্ষণ ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপে নিজের আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ করার পর এটিই সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ আসর। বয়সের কারণে মাঠের সিংহভাগ সময় হেঁটে পার করলেও তার পায়ের জাদু আর ক্ষুরধার মস্তিষ্ক এখনো প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। নকআউট পর্বে মিশরের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে মেসি আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছেন, তা প্রমাণ করে কেন তিনি দলের প্রধান অনুপ্রেরণা।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড শিবিরের মূল ভরসা জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। চলতি আসরে ইংল্যান্ডের করা ১৩টি গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে এই দুই বিশ্বমানের তারকার পা থেকে। আর্জেন্টিনা যেখানে কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের মতো দলগুলোর বাধা পেরিয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে সেমিফাইনালে এসেছে, সেখানে ইংল্যান্ড এই সুযোগের পুরো ফায়দা তুলতে চায়।
সূত্র: বিবিসি
