কুসংস্কারের কারণে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে থাকবেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই। কুসংস্কার ও সৌভাগ্যের বিশ্বাস থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, বাড়িতে বসে আগের ম্যাচগুলোর মতোই ফাইনাল দেখলে আর্জেন্টিনার জন্য তা শুভ হবে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাইলেই এমনটি জানান।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জানন, রবিবার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল তিনি প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন অলিভোস থেকেই দেখবেন। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার আগের সাতটি ম্যাচও তিনি সেখান থেকেই দেখেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই দল জয় পেয়েছে।

শুধু তাই নয়, সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ফাইনালের দিনও তিনি একই ভারী জ্যাকেট পরবেন বলে জানান। মাইলেই বলেন, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে গরম লাগায় একবার জ্যাকেট খুলে ফেলেছিলেন। ঠিক তখনই আর্জেন্টিনা গোল হজম করে। পরে আবার জ্যাকেট পরে নেন এবং এরপর থেকে আর তা খোলেননি। তার বিশ্বাস, এই জ্যাকেটও দলের সৌভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনায় এমন কুসংস্কার বা কাবালা বেশ প্রচলিত। অনেক সমর্থক প্রতিটি ম্যাচে একই পোশাক পরেন, কেউ বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রিয় জার্সি পরিষ্কার করেন না, আবার কেউ একই জায়গায় বসে খেলা দেখেন। এমনকি কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, নির্দিষ্ট কোনো অভ্যাস বদলালে দলের ভাগ্যও বদলে যেতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করা শুরু করলে একদল সমর্থক বাইবেল পাঠ করছিলেন। এরপর থেকে তারা প্রতিটি ম্যাচেই একই রীতি অনুসরণ করছেন। প্রতিপক্ষের দুর্ভাগ্য কামনায় খেলোয়াড়দের নাম লেখা কাগজ বা তাদের প্রতিকৃতি ফ্রিজে রেখে দেওয়ার মতো কুসংস্কারও অনেক সমর্থকের মধ্যে প্রচলিত।

আর্জেন্টিনার রাজনীতিতেও এই বিশ্বাসের প্রভাব রয়েছে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম উদ্বোধনী ম্যাচের আগে জাতীয় দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপরই ক্যামেরুনের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই ঘটনার পর মেনেমকে অনেকেই মুফা বা অশুভ বলে অভিহিত করেন।

এরপর থেকে দায়িত্বে থাকা কোনো আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকাপে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সরাসরি উপস্থিত হননি। সেই দীর্ঘদিনের অলিখিত বিশ্বাসই এবারও অনুসরণ করছেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights