বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

অনলাইন ডেস্ক

স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে টিকিটের দাম নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠাতব্য এই ম্যাচের টিকিটের গড় মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্টের রেকর্ড গড়েছে। ফলে এনএফএল সুপার বোল ও এনবিএ ফাইনালের টিকিটের দামকেও ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনাল।

টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার শেষ মুহূর্তের বিক্রয় সাইটে কেবল ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি–১’-এর সীমিতসংখ্যক টিকিট অবশিষ্ট রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিটি টিকিটের মূল্য ছিল ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

ফিফার আনুষ্ঠানিক রিসেল প্ল্যাটফর্মেও টিকিটের দাম অত্যন্ত বেশি। সেখানে ক্যাটাগরি–৩ এর সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য প্রায় ৮ হাজার ডলার। ক্যাটাগরি–১ এর টিকিট শুরু হচ্ছে ১১ হাজার ৭০০ ডলার থেকে। অন্যদিকে ফ্রন্ট ক্যাটাগরি–১ এর টিকিট কিনতে গুনতে হচ্ছে অন্তত ১৭ হাজার ২০০ ডলার। হুইলচেয়ার ও সহজ প্রবেশাধিকার বিভাগের টিকিটের দামও ১৪ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলারের মধ্যে।

তবে বেসরকারি রিসেল প্ল্যাটফর্মে দাম আরও বিস্ময়কর। সেখানে ক্যাটাগরি–১ এর একটি টিকিটের মূল্য ৫ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, ফ্রন্ট ক্যাটাগরি–১ এর টিকিট ৫ লাখ ৯৫ হাজার ডলার এবং ক্যাটাগরি–৩ এর একটি আসনের মূল্য সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ডলার পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। যদিও এসব দামে টিকিট বিক্রি হবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবুও চলতি বিশ্বকাপে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তুলনামূলকভাবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনএফএল সুপার বোলের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ম্যাচের তিন দিন আগে ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার। আর জুনে অনুষ্ঠিত এনবিএ ফাইনালের একটি ম্যাচের টিকিট শুরু হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ডলার থেকে।

বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি চালু করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই পদ্ধতিতে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দামও বাড়তে থাকে।

এপ্রিল মাসে টিকিট বিক্রির চতুর্থ ধাপে ক্যাটাগরি–১-এর টিকিটের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার, যা আগের বছরের অক্টোবরের শুরুর দামের তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বেশি। একইভাবে ক্যাটাগরি–২ ও ক্যাটাগরি–৩-এর টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের গড় টিকিট মূল্যের তুলনায় চার থেকে ছয় গুণ বেশি ছিল। এরপর ফাইনাল যত ঘনিয়ে এসেছে, টিকিটের মূল্যও তত বেড়েছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ধারণা করা হয়েছিল, এত বেশি দামের কারণে অনেক স্টেডিয়ামেই দর্শকসংখ্যা কম হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে ১৬টি আয়োজক শহরের অধিকাংশ ম্যাচই ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। ফাইনালও পুরোপুরি দর্শকপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিশ্বকাপের টিকিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্য ভবিষ্যতে সাধারণ সমর্থকদের জন্য টুর্নামেন্ট উপভোগ করা আরও কঠিন করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকেও একই ধরনের মূল্যনীতি অনুসরণ করা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights