বিশ্বকাপ উন্মাদনায় নিউইয়র্ক যেন ছোট্ট আর্জেন্টিনা

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্ক যেন পরিণত হয়েছে ছোট্ট এক আর্জেন্টিনায়। কুইন্সের এলমহার্স্ট এলাকা, যা অনেকের কাছে ‘ছোট আর্জেন্টিনা’ নামে পরিচিত, এখন সাদা-আকাশি রঙে সেজেছে। রাস্তা, বেঞ্চ, দোকানের সামনের অংশ, এমনকি ফায়ারসার্ভিসের কর্মীদের মুখও রাঙানো হয়েছে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের রঙে।

রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা। তার আগে নিউইয়র্কে বসবাসরত আর্জেন্টিনাবাসীরা নানা আয়োজনের মাধ্যমে দলের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

কুইন্সের বাসিন্দা ও ‘রিও দে লা প্লাতা’ বেকারির মালিক ক্রিস্টিয়ান জিমেনেজ বলেন, এক সময় এই এলাকাজুড়ে আর্জেন্টিনাবাসীদের বসবাস ছিল। এখন সেই সংখ্যা কমে গেলেও বিশ্বকাপ এলেই পুরোনো আবহ ফিরে আসে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই এই ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক।’

তার বেকারির দেয়ালে লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশাল চিত্র আঁকা রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক।

৭৪ বছর বয়সী বিয়াত্রিজ হাইমে জানান, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পর নিউইয়র্কে যে আনন্দ-উৎসব দেখেছিলেন, সেই স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিকড় যেমন আর্জেন্টিনায়, তেমনি এখানেও। সেটা কখনও ভোলা যায় না।’

স্থানীয় বাসিন্দা হেনরি পাচাকো বলেন, ম্যাচের দিন পুরো এলাকাই যেন স্টেডিয়ামে পরিণত হয়। রাস্তা বন্ধ করে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হয়, বাজে গান, চলে খাবারের আয়োজন। স্টেডিয়ামে না গিয়েও সমর্থকেরা একসঙ্গে খেলা উপভোগ করেন।

তার মতে, মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচকে ঘিরে এবারের আবেগ আরও বেশি। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যেখানেই আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা একত্রিত হন, একই রকম আবেগ দেখা যায়।’

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কিছু বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠলেও, জিমেনেজ বলেন, সেগুলো পুরো সমর্থকগোষ্ঠীর পরিচয় নয়। তিনি বলেন, ‘আপনি যে জাতি বা বর্ণেরই হোন না কেন, যদি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন, তাহলে আপনি আমাদেরই একজন।’

অন্যদিকে ব্রুকলিনের কেনসিংটন এলাকা, যা ‘ছোট বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত, সেখানেও বিশ্বকাপকে ঘিরে চলছে আর্জেন্টিনা উন্মাদনা। দ্রুত বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ আর্জেন্টিনার সমর্থক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল আলম বলেন, ম্যাচের দিন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখানো হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে তার দোকানেই ভিড় করেন সমর্থকেরা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসে, আর আর্জেন্টিনাও বাংলাদেশকে ভালোবাসে।’

কেনসিংটনের বাসিন্দা সাজিদ ভূঁইয়া মনে করেন, এলাকায় অন্তত ৯০ শতাংশ বাংলাদেশিই আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার মতে, অনেকের কাছে এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে পারে, তাই সবাই এই ফাইনাল দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের স্মৃতি তুলে ধরে সাজিদ বলেন, ‘কয়েক মিনিটে দুটি গোল হওয়ার পর আমি এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম যে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিলাম না। যদি ফাইনালেও এমন কিছু হয়, তাহলে আমরা আবারও সেই আনন্দ উপভোগ করব।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তাই নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে ব্রুকলিন দুই ভিন্ন সম্প্রদায়, একটাই আবেগ। সবার চোখ এখন মেসিদের দিকে, আর অপেক্ষা কেবল শিরোপার শেষ লড়াইয়ের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights