বক পানকৌড়িতে মুখর কিশোরনগর

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
কিশোরনগর। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি ছোট গ্রাম। তিন বাড়ি নিয়ে গঠিত গ্রামটির জনসংখ্যা হাজারের মতো। গ্রামের সিরাজ মাস্টারের বাড়িতে গাছের মাথায় বাসা বেঁধেছে কয়েক হাজার পাখি। বক, পানকৌড়িসহ নানা জাতের পাখি। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর গ্রাম।

সরেজমিন দেখা যায়, বুড়িচং বাজারের আগে আগানগর রাস্তার মাথা। সেখান থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের কিশোরনগর গ্রাম। উপজেলার অনেকেই নাম জানেন না ছোট এ গ্রামটির। তবে পাখির অভয়াশ্রমের কারণে গ্রামের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। খালি মাঠের পাশে ছোট কয়েকটি পুকুর। পুকুরপারে সিরাজ মাস্টারের বাড়ি। বাড়ির পাশে ও পুকুরপাড়ে বাঁশঝাড়, তেঁতুল, আম, নারকেলেসহ বিভিন্ন গাছে পাখি বাসা বানিয়েছে। কোথাও সাদা বক, কোথাও পানকৌড়ি দলবেঁধে বসে আছে। বাসায় বাসায় ছানার দেখা মেলে। মা পাখি খাবার নিয়ে এলে ছানাগুলো গলা বাড়িয়ে দেয়। এখানে তারা চার মাস অবস্থান করে। ছানা ফুটিয়ে বড় করে আবার চলে যায় দূরে কোথাও। বাড়ির গাছগুলো যেন পাখির নিরাপদ ডেলিভারি ওয়ার্ড। বর্ষা থেকে শরৎ, কখনো হেমন্তকালেও থাকে। শীতের আগে চলে যায়। চার বছর ধরে এখানে বসছে। পাখিগুলো দেখতে ও ছবি তুলতে পাশের গোপীনাথপুর, কণ্ঠনগর, গোঁসাইপুর, বাহেরচর, শ্রীপুর, শিবরামপুর, গোবিন্দপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন আসেন। গাছের মাথায় সাদা বক আর কালো পানকৌড়ির রাজত্ব দেখে হঠাৎ গেয়ে ওঠেন-‘সাদা সাদা কালা কালা, রঙ জমেছে সাদা-কালা। হইছি আমি মন পাগলা…’।

মাস্টারবাড়ির বাসিন্দা নাজমুল হাসান, জামাল উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দিকে এত পাখি ছিল না। এ বছর বেশি এসেছে। বাড়ির বাসিন্দারা তাদের কোনো বিরক্ত করে না। পাশের বিল ও পুকুর থেকে খাবার এবং নিরাপদ আশ্রয় পায় বলে তারা এখানে আসে। তবে কিছু দুষ্ট লোক এখান থেকে পাখির ছানা নিতে চেষ্টা করে। আমরা তাদের এ কাজে বাধা দিই।’

সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের মতো পাখিরও প্রয়োজন রয়েছে। বুড়িচংয়ের কিশোরনগর গ্রামে পাখির অভয়াশ্রমের বিষয়টি শুনেছি। এলাকাটি আমরা পরিদর্শনে যাব। এরপর পাখি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights