শেষের নাটকীয়তা উতরে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

অনলাইন ডেস্ক
জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্টে হেরে সফর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ওয়ানডে সিরিজও হাতছাড়া হয়। তবে সিরিজে পিছিয়ে পড়েও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।

বুলাওয়েতে এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। স্বাগতিকদের ইনিংসে নিজের প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা দেন টাইগার স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তার শিকার হয়ে ৫ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি। দলীয় ৬ রানের মাথাতে ভেঙেছে জিম্বাবুয়ের এই ওপেনিং জুটি।

এরপর টিকে থাকা ওপেনার ব্রায়ান বেনেট এবং তিনে নামা ডিয়ন মেয়ার্স মিলে দলের ইনিংসকে টেনেছেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। ফিফটির খুব কাছে চলে যান বেনেট ও মেয়ার্স। তবে ফিফটির আগেই বিদায় নেন বেনেট। ব্যক্তিগত ইনিংসে ৩৮ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে দলের ৭৭ রানের মাথাতে বিদায় নেন ওপেনার তিনি। তাকে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ফিফটি ছুঁয়েছেন মেয়ার্স। বাংলাদেশের বোলারদের চাপে সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না আরেক প্রান্তের ব্যাটাররা। একের পর এক উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ৬ বলে ৩ রান করা অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে বিদায় করেন রিশাদ হোসেন। ৭ বলে ৭ রান করা রায়ান বার্লকে ফিরিয়ে দেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। ১৯তম ওভারে ক্যাচ মিস করলেও দারুণ এক থ্রোতে ব্র্যাড ইভান্সকে রান আউট করেন রিশাদ হোসেন।

রানআউটের পরের বলেই ক্লিভ মাদান্দেকে কট বিহাইন্ড করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ বলে যদিও বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়েছেন মেয়ার্স। জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে শেষ ভাগে টান এই মেয়ার্সই। ৫৩ বলে ৭৩ রান করে শেষ ওভারে আউট হন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১টি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন।

জবাব দিতে নেমে ৫ বলে ৪ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সাইফ হাসান। পাওয়ারপ্লেটা অত ভালো যায়নি বাংলাদেশের। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩০ রান তোলে টাইগাররা।

এরপর ২২ বলে ২৪ রান করে দলের ৫৯ রানের মাথায় থামেন ইমন। এরপর তানজিদের সাথে যোগ দেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। তানজিদ-হৃদয় এগিয়ে যান কার্যকরী ব্যাটিংয়ে।

১৯ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন হৃদয়। পরে ইয়াসির আলী চৌধুরী নেমে ৯ বলে খেলেন ১০ রানের ইনিংস। ক্রিজে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৫ রান। প্রথম বলে আসে ১ রান। পরের বলে মোসাদ্দেককে ফেরান ব্র্যাড ইভান্স। তখন ৪ বলে দরকার ৪ রান। পরের বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে দেন ইভান্স। ৩ বলে দরকার ৪ রান। পরের বল করার সময় ফিল্ডার মুভ করায় ডেড বল ডাকেন আম্পায়ার। পরের বলে চার মেরে দেন শেখ মেহেদী হাসান। বাংলাদেশ তুলে নেয় ৪ উইকেটের দারুণ এক জয়। ম্যাচের সাথে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেন ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা এবং সিকান্দার রাজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights