গাইবান্ধায় কমছে নদ-নদীর পানি, ভাঙন অব্যাহত
সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার নদ-নদীর পানি কখনো কমছে আবার কখনো বাড়ছে। পানি ওঠা-নামার সঙ্গে নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ভাঙনে বিলীন হয়েছে আড়াই শতাধীক বসতভিটা, মসজিদ ও চার শতাধিক বিঘা ফসলি জমি। ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রবিবার (১৯ জুলাই) গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেমি, ঘাঘট নদের পানি ৩ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১০৭ সেমি, তিস্তা নদীর পানি ৭ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসাীমার ৪৩ সেমি ও করতোয়া নদীর পানি ৪৩ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৯৮ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিনদিনে শতাধিক বসতবাড়ি ও দুই শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে ওই এলাকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, গবাদীপশু ও হাঁস মুরগি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন।
এছাড়া গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটায় উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নদ-নদীর পানি প্রতি বছর বৃদ্ধি-কমার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙন শুরু হয়, যা মাসের পর মাস চলতে থাকে। সরকার স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ, ড্রেজিং বা নদী খননের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছর প্রায় চার পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও হাজারো একর জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে দাবি স্থানীয়দের।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। নতুন এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
