উনাই সিমনের হাতেই কেন উঠল ‘গোল্ডেন গ্লাভ’

অনলাইন ডেস্ক

গোলপোস্টের নিচে রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ছিলেন এক অভেদ্য প্রাচীর। এই অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যের কারণে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ জিতে নিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে তার এই দেয়াল ভাঙতে নাজেহাল হয়েছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা স্ট্রাইকাররা। আর তার এই অতিমানবীয় ফর্মের ওপর ভর করেই এবারের আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে লা রোখারা। ফক্স স্পোর্টসের প্রতিবেদনে সিমনের গোল্ডেন গ্লাভ জেতার পেছনে যেসব বিষয় উঠে এসেছে—

রেকর্ডসংখ্যক ‘ক্লিন শিট’
উনাই সিমনের গোল্ডেন গ্লোভ জেতার সবচেয়ে বড় কারণ তার ক্লিন শিটের পরিসংখ্যান। ফুটবলীয় পরিভাষায় ‘ক্লিন শিট’ বলতে বোঝায় পুরো ৯০ মিনিট (বা অতিরিক্ত সময়সহ) ম্যাচে কোনো গোল হজম না করে জাল অক্ষত রাখা। সিমন এবারের বিশ্বকাপে মোট সাতটি ম্যাচে কোনো গোল খাননি। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের একটি একক আসরে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ ক্লিন শিট রাখার আগের সব ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।

ডিফেন্সের সঙ্গে বোঝাপড়া
পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণভাগের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন সিমন। মাঠের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে ও তরুণ পাউ কুবার্সির সঙ্গে তার বোঝাপড়া ছিল চমৎকার। ডিফেন্ডারদের পজিশন ঠিক করে দেওয়া এবং ডি-বক্সের ভেতরে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখতে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সমন্বয়ের কারণে স্পেনের রক্ষণভাগ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য ইউনিটে পরিণত হয়।

কম গোল হজমের রেকর্ড
ফাইনাল ম্যাচে নামার আগে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন সিমন। ওই একটি গোল হয়েছিল গ্রুপপর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এরপর নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচেই প্রতিপক্ষ তার জালের দেখা পায়নি। টুর্নামেন্টজয়ী দল হিসেবে ইতিহাসে সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক।

পেনাল্টি বক্সে নির্ভরযোগ্যতা
পরিসংখ্যানের বাইরেও সিমনের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। দূরপাল্লার শট কিংবা আচমকা আসা নিশ্চিত গোলের সুযোগ তিনি অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়েছেন। হাত ও পায়ের দুর্দান্ত সেভে স্পেনকে একাধিক ম্যাচে বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি। পেনাল্টি বক্সেও ছিল তার দারুণ নিয়ন্ত্রণ। প্রতিপক্ষের ভেসে আসা বিপজ্জনক ক্রসগুলো তিনি নিরাপদে হাতের মুঠোয় নিয়েছেন। ফলে স্পেনের রক্ষণভাগের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যায়।

শুধু তাই নয়, যুব দল থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো ২০২৪ জয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তিনি কোচের কাছেও ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights