নোলান ম্যাজিকে বুঁদ টিকটক প্রজন্মও, বক্স অফিসে ‘দ্য ওডিসি’ ঝড়

শোবিজ ডেস্ক
সব জল্পনা-কল্পনা এবং বক্স অফিসের পূর্বাভাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে মহাকাব্যিক জয়রথ ছুটিয়ে চলেছে ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’। হোমারের তিন হাজার বছরের পুরোনো গ্রিক মহাকাব্য অবলম্বনে তৈরি এই ছবিটি মুক্তির প্রথম উইকএন্ডেই যুক্তরাষ্ট্রে ১২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩,২৫৮ কোটি টাকা) আয় করে চলচ্চিত্র দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

কোনো সুপরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি বা সিক্যুয়েল না হয়েও স্কুলের পাঠ্যবইয়ের একটি শতাব্দী প্রাচীন কবিতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি ছবি যেভাবে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে, তা হলিউডের ইতিহাসে বিরল। এটি বিশ্বখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গ্লোবাল ওপেনিং, যা তার ২০১২ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ ছবির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ইউনিভার্সাল পিকচার্স এই ছবিটির পেছনে ২৫ কোটি ডলারের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিল, যা প্রথম সপ্তাহেই সাফল্যের মুখ দেখল।

এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আইম্যাক্স প্রযুক্তি। হলিউডের ইতিহাসে এটিই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যার প্রতিটি দৃশ্য সম্পূর্ণভাবে আইম্যাক্স ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। নোলানের এই দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে রুপালি পর্দায় দেখতে সিনেমাপ্রেমীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বব্যাপী মোট আয়ের প্রায় ২৩ শতাংশ অর্থাৎ ৫ কোটি ১৮ লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে কেবল আইম্যাক্স হলগুলো থেকে, যা জনপ্রিয় ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছবির আইম্যাক্স রেকর্ডকেও পেছনে ফেলেছে। বিশেষ করে ৭০ মিলিমিটারের বিরল আইম্যাক্স স্ক্রিনগুলোতে সিনেমাটি দেখার জন্য দর্শকরা এতটাই মরিয়া ছিলেন যে, মধ্যরাত ২টা কিংবা ভোর ৭টার শো-র টিকিটও অনায়াসে হাউসফুল হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে মাত্র ৪১টি এমন স্ক্রিন থেকে এক উইকএন্ডেই ৬৩ লাখ ডলার আয় হয়েছে, এবং আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত বেশির ভাগ আইম্যাক্স হলের টিকিট ইতিমধ্যেই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে।

‘ওপেনহাইমার’ ছবির অস্কার জয়ের পর নোলানের ওপর দর্শকদের যে বিপুল ভরসা তৈরি হয়েছিল, ‘দ্য ওডিসি’ তা শতভাগ পূরণ করেছে। ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, জেনডায়া ও রবার্ট প্যাটিনসনের মতো তারকাবহুল কাস্টিংসমৃদ্ধ এই সিনেমাটি কেবল প্রবীণ দর্শকদেরই নয়, বরং টিকটক প্রজন্মকেও হলমুখী করেছে। দর্শকদের প্রায় ৫০ শতাংশেরই বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে, যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই ঘরানার সিনেমার বিপুল গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়।

সমালোচকদের কাছ থেকেও ছবিটি ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছে। রটেন টম্যাটোসে ৯৫ শতাংশ রেটিং এবং সিনেমা স্কোরে ‘এ’ গ্রেড পাওয়ার পর এটি স্পষ্ট যে, দর্শক ও সমালোচক উভয়ের মন জয় করে নিয়েছে নোলানের এই নতুন মাস্টারপিস। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমা হলের বড় পর্দায় দেখার মতো আবহ তৈরি করে ‘দ্য ওডিসি’ থিয়েটার জগতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।

সূত্র: ভ্যারাইটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights