হুথির নতুন খেলায় জব্দ সৌদি
অনলাইন ডেস্ক
চারপাশে শুধু ধ্বংসের হুঙ্কার আর বারুদের উৎকট গন্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে-বাতাসে যেন এখন শুধু একটাই শব্দ; যুদ্ধ। ঠিক এমন এক উত্তাল সময়ে ইয়েমেনের হুথিরা অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যা পুরো আরব উপদ্বীপকে নতুন করে এক ভয়ানক সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথ বাবেল মান্দেব এখন চরম হুমকির মুখে। আর এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে সরাসরি সৌদি আরব।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল রিয়াদ ইয়েমেনের সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালানোর পর। মূলত সানার সেই বিমানবন্দরে সরাসরি ইরানি ফ্লাইটের পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছিল, যা সৌদি আরব এবং তাদের মিত্রদের কাছে ছিল রেডলাইন। কিন্তু হুথি বসে থাকেনি; প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠে তারা সরাসরি সৌদি আরবের গভীরে মিসাইল নিক্ষেপ করে। এই আকস্মিক সংঘাতে মুহূর্তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের পরিস্থিতি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সৌদি আরব তাদের মোট তেল রপ্তানির প্রায় সত্তর শতাংশই ঘুরিয়ে দিয়েছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে। কিন্তু হুথিদের নতুন এই নৌ-অবরোধের হুমকি সৌদি আরবের সেই বিকল্প তেল রুটকেও একেবারে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। এ যেন এক গভীর কূটকৌশল, যেখানে হরমুজের পর এবার দ্বিতীয় প্রধান তেলের রুটটি চলে এসেছে চরম বিপদের মুখে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের সম্প্রসারণ এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গের পরেই এই নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটেছে। হরমুজ প্রণালি যখন উত্তাল, তখন বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও হুমকির কার্ড ব্যবহার করে হুথি এখন ওয়াশিংটন এবং রিয়াদ উভয়ের ওপরই এক অভাবনীয় মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। তারা বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক সংকটের খাঁড়া ঝুলিয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে।
সৌদি আরব এখনও পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম সংযমের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে চাইছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন এলে রিয়াদ চুপ করে বসে থাকবে না, কারণ তাদের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন রণক্ষেত্রে তেলের পাইপলাইন আর জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে খেলা শুরু হয়েছে, তা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত এবং ভয়াল ভবিষ্যতের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
