আপিলে রক্ষা পেল চেলসি, পয়েন্ট কাটার বদলে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত
অনলাইন ডেস্ক
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)। ক্লাবটির ওপর পরপর দুই উইন্ডোর জন্য ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও সেটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার এফএ এক বিবৃতিতে জানায়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের তদন্তে চেলসির বিরুদ্ধে আনা ৭৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শুরুতে ক্লাবটিকে ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তবে আপিলের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। পরিবর্তে টানা দুটি ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা আপাতত স্থগিত থাকবে।
গত সেপ্টেম্বরে চেলসির বিরুদ্ধে ফুটবল এজেন্ট সংক্রান্ত নিয়ম, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ করার নিয়ম এবং খেলোয়াড়দের চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিল এফএ।
এফএ জানায়, এই অনিয়মগুলো ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যকার সময়ের এবং এগুলো প্রধানত ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুমের মধ্যে ঘটেছিল যে সময় রোমান আব্রামোভিচ চেলসির মালিকানায় ছিলেন।
এফএর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শুনানির আগেই চেলসি এফএ রুল ই১.২-এর ৭৪টি নিয়ম ভঙ্গের কথা স্বীকার করে নেয়। এরপর একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত ছয় পয়েন্ট কাটা এবং ১ কোটি পাউন্ড জরিমানার নির্দেশ দেয়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পয়েন্ট কাটার স্থগিত শাস্তির বিরুদ্ধে ক্লাব আপিল করে এবং পরবর্তী শুনানির পর একটি স্বাধীন আপিল বোর্ড ক্লাবটির আপিল মঞ্জুর করে এই শাস্তি বাতিল করে। এর পরিবর্তে আপিল বোর্ড টানা দুটি ট্রান্সফার উইন্ডোতে খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।’
এফএ আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান।
ঘটনাটি সামনে আসে ২০২২ সালে চেলসির মালিকানা পরিবর্তনের পর। বর্তমান মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো ক্লাব অধিগ্রহণের সময় অতীতের আর্থিক লেনদেন ও এফএর নিয়ম ভঙ্গের সম্ভাব্য অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তারা কোনো রকম আড়াল না করে বিষয়গুলো স্বেচ্ছায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ এবং ইউয়েফার কাছে লিখিতভাবে জানায়।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে চেলসি জানিয়েছে, এফএর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘২০২২ সালে ক্লাবটি সমস্ত সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সম্ভাব্য নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি নিজের থেকেই জানায়। ওই রিপোর্টের পর থেকে তারা সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, যার মধ্যে স্বেচ্ছায় হাজার হাজার নথিপত্র প্রকাশ করাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
ক্লাবটি আরও জানায়, ‘পূর্বে ঘোষণা করা মতোই, একই বিষয়ে এর আগে ইউয়েফা এবং প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এফএর প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ক্লাবের বিরুদ্ধে চলমান চলমান সব তদন্তের অবসান হলো, যা ক্লাব আনন্দের সঙ্গে নিশ্চিত করছে।’
চেলসির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াল ১ কোটি ৮৬ লাখ পাউন্ড। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে একই ধরনের অপরাধে ইউয়েফা ক্লাবটিকে ৮৬ লাখ পাউন্ড জরিমানা করেছিল।
