দুর্গম পাহাড়ে ৩৯৭ শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাল চক-স্লেট

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাতটি বিদ্যালয় ও শিক্ষাকেন্দ্রের ৩৯৭ শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে চক ও স্লেট তুলে দেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এলিভেটিং সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট (ESSD) এ উদ্যোগ নেয়। কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে ডিবিএল সিরামিকস লিমিটেডের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিল।

২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় গিয়ে এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। ESSD-এর পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট, প্রোগ্রামস ও ফাইন্যান্স) শাদমান বিন সামাদ এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহান এ কার্যক্রমে অংশ নেন।

ESSD জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভৌগোলিক প্রতিকূলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, দীর্ঘ পথ এবং পানির সংকটের মধ্যেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়ি সদরের উত্তর গঞ্জপাড়া নন-গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলের ৮৩ জন, রবিধন পাড়া নন-গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলের ৭৩ জন, মাটিরাঙ্গার দলদলি আশা হফনং নন-গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলের ৯২ জন এবং আদর্শগ্রাম আনোয়ারা বেগম তা’লিমুল কোরআন মাদ্রাসার ৯৯ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা উপকরণ পেয়েছে। এছাড়া পানছড়ির পূর্ব ডমডমপাড়া কেন্দ্র, ডমডমপাড়া কেন্দ্র ও সাঁওতালপাড়া কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরাও এই সহায়তার আওতায় এসেছে।

মাঠপর্যায়ে গিয়ে ESSD টিম দেখতে পায়, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে সরু পাহাড়ি কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। দুর্গম পথের কারণে কোথাও চাঁদের গাড়ি (জিপ), আবার কোথাও মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়েছে। রবিধন পাড়ার মতো কিছু বিদ্যালয় নিকটবর্তী বাজার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পানির সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি এলাকার পরিবারকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে ৭ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

ESSD বলছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, ধারাবাহিক সহযোগিতা পেলে এসব এলাকার শিশুদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights