ইরাকে মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলা: রিয়াদ ও তেহরানের টানাপড়েনে চাপে বাগদাদ
অনলাইন ডেস্ক
২৯ জুলাই ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের নজিরবিহীন যৌথ হামলায় অন্তত ২০ জন প্যারামিলিটারি সদস্য এবং ইরানিয়ান বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) চারজন সামরিক উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন। সৌদির তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে রিয়াদ এটিকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে।
তবে এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করা এবং দেশের অভ্যন্তরে তেহরান-পন্থী শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে বাগদাদের বহুদিনের ভারসাম্য রক্ষার কৌশলটি অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে এই যৌথ হামলাটি কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূচনা নয় বরং রিয়াদের পক্ষ থেকে তেহরান ও তার আঞ্চলিক সহযোগীদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা। হামলায় ইরানি সামরিক উপদেষ্টাদের প্রাণহানি ঘটায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এটি সরাসরি তেহরানকে ইঙ্গিত দেয় যে, ইরাকের মাটি ব্যবহার করে পরিচালিত যেকোনো হামলার দায়ভার শেষ পর্যন্ত ইরানকেই বহন করতে হবে।
হামলার পর ইরাকের প্রতিরোধ জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিলেও রিয়াদের প্রতি কিছুটা মেপে কথা বলছে। আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে বাগদাদ সরকারকে এই হামলার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে গোষ্ঠীটি। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত অতর্কিত হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়, তখন তাদের মূল লক্ষ্য থাকে সামরিক সংঘাতের চেয়ে সরকারকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা। তবে আইআরআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপের বড় অংশই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান পরোক্ষ আলোচনার ফলাফলের ওপর।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে চরম ধাক্কা খেয়েছে বাগদাদ সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্কার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা। সরকার ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অননুমোদিত গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল কিন্তু সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারি ব্যর্থতার অজুহাত তুলে কাতায়েব হিজবুল্লাহর মতো প্রভাবশালী দলগুলো এখন অস্ত্র জমাদানের বদলে শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা দিচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্কারের এই ব্যর্থতা কেবল অভ্যন্তরীণ শান্তিকেই বিঘ্নিত করছে না বরং সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সাথে স্বাক্ষরিত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক চুক্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগের ভবিষ্যৎকেও বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
