ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে নতুন হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

অনলাইন ডেস্ক

ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছে না ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে একাই সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে তার দেশ। তিনি বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদির সাম্প্রতিক বক্তব্যই তার গভীর উদ্বেগের কারণ। তার দাবি, ওই বক্তব্যে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা স্পষ্ট করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় মিত্র। তবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েল নিজেও প্রস্তুত রয়েছে। এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা প্রয়োজনে একক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

এদিকে, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার আলোচনা এখন উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষ খসড়া প্রস্তাবও বিনিময় করেছে।

সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আল-আনসারি বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। লক্ষ্য হলো একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো এবং চলমান উত্তেজনা কমানো।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সাম্প্রতিক পর্যায় শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা আঞ্চলিক কয়েকটি দেশে তারা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা কমাতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে শুরু করে উভয় পক্ষ।

তবে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই আলোচনা পরে স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর ৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়।

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কাতার বলছে, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও এখনও রয়েছে। তবে সেই সময়েই নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, আলোচনার পাশাপাশি ইসরায়েল সামরিক বিকল্পও খোলা রাখতে চাচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights