গণ-অভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মব করেছে কিছু ব্যক্তি : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অনলাইন ডেস্ক

সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি পক্ষ কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যারা ক্ষমতা ভোগ করেছে, সেই ক্ষমতা হারিয়ে আজ তারা পাগলপ্রায় বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানকে কিছু ব্যক্তি বানচাল করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেটাকে আমরা ইদানীং মব কালচার হিসেবে জানি, সেই কাজটি তারা করেছে। সেখানে তারা এমন একটি অবস্থা তৈরি করে—আমাদের দেশের সুনাম সারা পৃথিবীতে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি অপূরণীয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না, এটি দেশবাসী সবার অভ্যুত্থান বলে মন্তব্য করেন ইশরাক হোসেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, যারা জুলাইযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং গতকাল (৫ আগস্ট) এই ঘটনার পর সেই রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং আজ বিরোধীদলীয় নেতা যে দাবি করেছে, ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করছি আমরা, এটা কোনোদিনও কি সম্ভব? ২০২৪ সালে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এখন কি ইতিহাস বিকৃত করে একটা কিছু চালালেই সেটা সম্ভব হয়ে যেতে পারে? না। সেখানে যে প্রদর্শনীটি করা হয়েছিল তথ্যচিত্র সেটা কয়েক মিনিটের এবং সেই অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে এটা কোনো ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছিল না। তাদের যে অবদান সেটাকে তো আমরা কোনোদিনও অস্বীকার করিনি, করব না।

কেন আমরা তাদের অবদান অস্বীকার করব, তারা তো আমাদেরই ভাই, আমরা একসাথেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ জানানোর সভ্য ভাষা এবং নিয়ম আছে। তারা সেই পন্থা ব্যবহার না করে তারা পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর।

তিনি বলেন, যখন অনুষ্ঠানটি শুরু হয় তার আগে শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেখানে গিয়ে আমি শহীদ পরিবারদের মায়েদের কাছ থেকে, বাবাদের কাছ থেকে যারা সন্তান হারিয়েছে যে ধরনের অভিযোগ পেয়েছি এগুলো যদি এখন আমি বলি, তাদের রাজনীতির ‘র’ আর থাকবে না।

তারা শহীদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে, সেটি বললে তাদের রাজনীতি আর থাকবে না বলে মন্তব্য করেন ইশরাক হোসেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আমরা যারা রয়েছি, কোনোভাবে আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করা যায় কি না, সেটার জন্য প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের সম্মানকেও তারা হানি করতে রাজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights