থামছে না যমুনা-বাঙালির ভাঙন, হুমকিতে দক্ষিণ মাঝবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া:
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন। কোথাও ফসলি জমি, কোথাও বসতভিটা, আবার কোথাও বাঁধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সারিয়াকান্দির দক্ষিণ মাঝবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যমুনার ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১ সেন্টিমিটার। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিনই নদীর পাড়ের নতুন নতুন অংশ ভেঙে পড়ছে। চোখের সামনে আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নদীর তীব্র স্রোত ও পানির চাপের কারণে ভাঙন প্রতিরোধে নেওয়া জরুরি ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে টেকসই হচ্ছে না।
জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙনে কর্নিপাড়া ইউনিয়নের শোনপচা, মূলবাড়ী, বোহাইল ইউনিয়নের মাঝিড়া এলাকায় কৃষি জমি ও বাড়িঘর বিলীহ হচ্ছে। হুমকিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বোহাইল বাজার। ভাঙন আতঙ্কে গত দুই সপ্তাহে ৩ শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। শত শত বিঘা জমির ফসল নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া, ইছামারা, টিটুর মোড় ও গোদাখালী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সারিয়াকান্দির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙালী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। উপজেলার কুতুপপুর ইউনিয়নের চরমাছির পাড়া ও জোড়গাছা এলাকা ভাঙছে পুরোদমে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে তাদের আবাদি জমির উল্লেখযোগ্য অংশ নদীতে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতবাড়িতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গত ৪ আগস্ট ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি এলাকায় যমুনার ভাঙনে বাঁধের প্রায় ১২০ মিটার অংশ ধসে যাওয়ার পর সেখানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে প্রবল স্রোতের কারণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
যমুনাবেষ্টিত সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি ও নদীভাঙন নতুন করে দুর্ভোগ তৈরি করেছে। উপজেলার মাঝবাড়ীসহ বিভিন্ন নদীতীরবর্তী চর এলাকায় অতীতেও পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের প্রভাব পড়েছে। সারিয়াকান্দির বহু চরাঞ্চলের মানুষ পানি বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন। দক্ষিণ মাঝবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ এখন সবচেয়ে বেশি। বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়লে ওই এলাকার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার তিতপরল গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর গতিপথ পর্যবেক্ষণ এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন করতে হবে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে যমুনার তীরবর্তী কিছু অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিং করে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
