৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে, কমেছে জিপিএ-৫
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গত সাত বছরের মধ্যে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সর্বনিম্ন পাসের হার হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
শুধু পাসের হার নয়, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডের গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। অর্থাৎ ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।
গত বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ জন। সে হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ২২১ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে হয় ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশে। এবার আরও কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। আর গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট।
এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৪৮৭ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৫২ জন। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৬২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪২৩ জন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে এখনো দুই মাসও পূর্ণ হয়নি। আমি যোগদানের পর শুধু ফলাফল প্রকাশ করেছি। তবে ফলাফল কেন কমেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা না করে এখনই বলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার এ বোর্ডে মানবিক, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল বেশি খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে মানবিকে সবচেয়ে বেশি খারাপ, মাত্র ৩৮ শতাংশ পাস করেছে। ফলাফল পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।’
