জালে ব্যাহত জাহাজ চলাচল

মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙর। যেখানে নির্ভিঘ্নে ঢোকার কথা জাহাজের। কিন্তু সেই বন্দরের আশপাশে ফেলা হচ্ছে মাছ শিকারের জাল। আর এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে জাহাজ চলাচল। মাঝেমধ্যেই জাহাজের প্রপেলারে (পাখা) জাল পেঁচিয়ে ইঞ্জিন বিকল হচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা। ফিশিং বোট থেকে জাহাজের নাবিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়। এ নিয়ে নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগও দিয়েছে। তবে সমাধান হয়নি। ফলে বহির্নোঙরে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে সর্বশেষ গত রবিবার এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফসার হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জেলেদের পাতা জাল সরানোর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিকরা লাইটার চলাচল বন্ধ করে দিতে পারেন বলে চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন যাবৎ পতেঙ্গা জেলেপাড়া থেকে পারকি বিচ, শিপ চ্যানেল আলফা থেকে কুতুবদিয়া, পতেঙ্গা থেকে ভাসানচর পর্যন্ত জেলেরা বিন্দি জাল পেতে স্থায়ীভাবে মাছ ধরার কারণে লাইটার জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। অনেক জাহাজের প্রপেলারের সঙ্গে জাল পেঁচিয়ে বিপদ ঘটছে। নৌ চলাচলের চ্যানেলে জাল বসানো অবৈধ হলেও জেলেরা কোনো আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। জাহাজের প্রপেলারে জাল আটকে গেলে জেলেরা দলবল নিয়ে এসে নাবিকদের ওপর পাথর নিক্ষেপ ও জাহাজে হামলা করছে। কিছুদিন আগে ভাসানচর এলাকা থেকে জেলেরা দুই জাহাজের দুই নাবিককে নিয়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এ আলটিমেটাম দেওয়া চিঠির পরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরসীমা, প্রবেশপথ, বাণিজ্যিক জাহাজের প্যাসেজ এবং বহির্নোঙর এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা, মাছ ধরার জাল স্থাপন অথবা ফিশিং বোটের মাধ্যমে নৌ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যকলাপ জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তার জন্য তীব্র ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, গত বুধবার এক যৌথ অভিযানে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights