হরমুজে বড় বিপদে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-বিরোধী যুদ্ধে নিয়োজিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তৈরি হয়েছে চরম মানসিক ও সরবরাহ সংকট। দীর্ঘ দুইশত ষাট দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করায় জাহাজটিতে অবস্থানরত নাবিক ও সেনাসদস্যদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র হতাশা ও মানসিক অবসাদ।

খবর রটেছে, ক্রমাগত মানসিক চাপে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও চালিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-কে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে পেন্টাগন। ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালি পার হয়ে ভারত মহাসাগরের পথে রয়েছে, যা শিগগিরই স্থান নেবে লিংকনের।

সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো ছয় থেকে নয় মাসের জন্য মোতায়েন করা হলেও যুদ্ধের কারণে লিংকনের কার্যকাল অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সান ডিয়াগো থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটি ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের কারণে শুধু যে সেনাসদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তা নয় বরং জাহাজটিতে সুপেয় পানি, খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেরও চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। নৌবাহিনী স্বীকার করেছে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় ডাকসেবাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল, যদিও বর্তমানে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে, লিংকনের নাবিকদের এমন দুর্দশার খবর চাউর হতেই মার্কিন রাজনীতিতে বইছে সমালোচনার ঝড়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা এই ঘটনায় পেন্টাগনের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। অ্যারিজোনার সিনেটর রুবেন গ্যালেগো একে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে পরিদর্শনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তবে এসব অভ্যন্তরীণ সংকট এবং তীব্র উদ্বেগের তোয়াক্কা না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বা পেন্টাগন কোনো পক্ষই ইরান যুদ্ধের অবসান বা এই অনির্দিষ্টকালের ব্লকহেড কীভাবে শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দিতে পারেনি।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights