সিইওশূন্য ১৫ বিমা কোম্পানি

শাহেদ আলী ইরশাদ

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছাড়াই চলছে দেশের অন্তত ১৫টি বিমা কোম্পানি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে শীর্ষ নির্বাহীর পদটি শূন্য রয়েছে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিমালা লঙ্ঘনের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দীর্ঘদিন ধরে সিইও পদ শূন্য থাকা বিমা কোম্পানিগুলোতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত সিইও নিয়োগে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে আইডিআরের নিজস্ব প্রার্থী পুল থেকে দুজনের নাম পাঠানো হবে। এরপর পরিচালনা পর্ষদ ওই দুজনের মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগের জন্য আইডিআরের কাছে প্রস্তাব করবে। সম্প্রতি আইডিআরএ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ উদ্যোগের বিষয়টি উঠে আসে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, সিইও পদ দীর্ঘদিন খালি থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে কোম্পানিগুলো প্রায়ই উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ার কথা বলে থাকে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মিত সিইও নিয়োগ না করে ভারপ্রাপ্ত সিইও দিয়ে দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আইডিআরের সদস্য (লাইফ) মো. আপেল মাহমুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা এর আগে আমাদের প্রার্থী পুল থেকে সিইও নিয়োগ দিয়েছি। তবে বর্তমানে ওই পুলে উপযুক্ত কোনো প্রার্থী নেই।’

তাই এবার নতুন করে সিইও প্রার্থী পুল তৈরি করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ জন্য চলতি সপ্তাহেই যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে একটি সার্কুলার জারি করা হবে।

কারা থাকবেন সিইও প্রার্থী পুলে : আইডিআরের প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিইও প্রার্থীকে বিমা খাতে কমপক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে।

এর পাশাপাশি প্রার্থীর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো বিমা করপোরেশনে সিইও, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) বা মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে অন্তত এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হবে। তবে ডিএমডি পদে থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত হিসেবে প্রধান কার্যালয়ে অন্তত এক বছরের প্রশাসনিক বা নন-ডেভেলপমেন্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আইডিআরএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রার্থী পুল তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এরপর অক্টোবর থেকে যেসব কোম্পানির সিইও পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগব্যবস্থা কার্যকর করার কথা রয়েছে।

কোন কোন কোম্পানিতে সিইও নেই : কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সিইও ছাড়া চলছে অন্তত ১৫টি বিমা কোম্পানি। এর মধ্যে জীবন বিমা খাতের কোম্পানির সংখ্যাই বেশি। সিইও পদ শূন্য থাকা জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনআরবি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অন্যদিকে নন-লাইফ বিমা কোম্পানির মধ্যে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ও প্রগতি ইন্স্যুরেন্স সিইও ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ সিইও পদ : একটি বিমা কোম্পানির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, আর্থিক শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সিইও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পদটি শূন্য থাকা কোম্পানির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত সিইও দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে নিয়মিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

আইডিআরের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্যও হচ্ছে এই দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা বন্ধ করা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ার অজুহাতে কোনো কোম্পানি যেন অনির্দিষ্টকাল সিইও পদ খালি রাখতে না পারে, সে জন্য একটি কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন। আপেল মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রার্থী পুল প্রস্তুত এবং অক্টোবরে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদগুলোতে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে সিইওবিহীন থাকা ১৫টি বিমা কোম্পানিতে শীর্ষ নির্বাহী নিয়োগে এবার আর শুধু কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে চাইছে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights