বিদেশ যাবে বগুড়ার দই
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ-পূজা কিংবা পারিবারিক ভোজ। বাঙালির নানা আয়োজনেই মিষ্টান্ন হিসেবে বগুড়ার দইয়ের রয়েছে আলাদা কদর। স্বাদ, ঘনত্ব, রং ও ঐতিহ্যের কারণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশিদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ দই। এখন বগুড়ার দইকে বাণিজ্যিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে অনেক দেশে পাঠানোও শুরু হয়েছে। বগুড়ার দই ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) ২০২৩ সালে বগুড়ার দইকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জিআই স্বীকৃতি বগুড়ার দইকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। জানা যায়, বগুড়ায় দইয়ের ব্যবসা এখন আর ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই। জেলার শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ছোট-বড় শতাধিক কারখানা ও শোরুমে প্রতিদিন তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে দই। বগুড়ায় বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার দই কেনাবেচা হয়ে থাকে। একই সঙ্গে মিষ্টির বাজারও প্রায় ৩০০ কোটি টাকার। বগুড়ার দইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাটির সরা ও হাঁড়ির ব্যবসাও। এশিয়া সুইটসের জেনারেল ম্যানেজার মো. আরিফ উজ্জামান দিপু বলেন, দই তৈরির মূল উপকরণ ভালো মানের দুধ। দুধের মান যত ভালো হবে, দইও তত সুস্বাদু হবে। দই তৈরিতে দক্ষ কারিগর না থাকলে উপকরণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, জিআই স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিদেশের বাজারে দই রপ্তানি করা গেলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বগুড়ার অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
