প্রথম ভোট দিলেন তারা

জিন্নাতুন নূর ও সুদীপ্ত দাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার জেন-জিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে ছিল এই জেন-জিরা। গতকাল ভোটের দিনে জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে তরুণ এই ভোটাররা বেশ যাচাইবাছাই করেই ভোট দিয়েছেন। শুধু প্রতীক নয়, দেশ পরিচালনায় প্রার্থী যোগ্য কি না সেই বিষয়টিকেও নবীন ভোটাররা বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। গণ আন্দোলনের পর জেন-জি ভোটাররা ভোট দেওয়াকে রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। ঢাকা-১৬ আসনের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা গতকাল জীবনের প্রথম ভোট দিতে আসেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘নিজেকে বড় মনে হচ্ছে, কারণ এর আগে তো কখনো ভোট দিইনি। আশা করেছিলাম ২০২৪-এর গণ আন্দোলনের পর পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। তাই এই নির্বাচনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ‘সবার ইশতেহার পড়েছি এবং তাদের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেছি। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রার্থীদের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেই আমি ভোট দিয়েছি। সবদিক মিলিয়ে যাকে ভালো মনে হয়েছে তাকেই বেছে নিয়েছি।’ এই কেন্দ্রে জীবনের প্রথমবারের মতো ভোট দেন তাহসিনা বেগম। ভোট দিতে এসে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক খুশি দেশের এই পরিবর্তনে। কারণ গত সরকারের আমলে ভোট দেইনি। মনে করতাম যে হয়তো ভোট দেওয়ারই দরকার নাই কারণ রেজাল্ট তো একই হবে।’ প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি নারীদের নিরাপত্তা, দেশের উন্নতি ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী এম আই মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে এসেছিলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান। ভোট দিতে এসে এই জেন-জি ভোটার বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিয়ে খুবই ভালো লাগছে। এখন মনে হচ্ছে আমি দেশের একজন দায়িত্ববান নাগরিক। এর আগে ভোট দেওয়ার আগ্রহ তেমন ছিল না। আমি দেখেছি আমার বয়সি ছেলেরা সিলের ওপর সিল মেরেছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে আমি প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাদের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি গুণাবলি মাথায় রেখে তাদের ভোট দিয়েছি। একই আসনের মিরপুর গার্লস ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে কথা হয় রাফসান আহমেদ নামের নতুন ভোটারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করছি। জুলাই আন্দোলনের পরে নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে বা যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে নতুন সরকার এসে সাহায্য ও ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করবে। কারণ আগের সরকার তাদেরকে নিয়ে কোনো কিছু করে যেতে পারে নাই। আমি আশা করব নতুন সরকার এসে আন্দোলনে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াবে। বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, ‘আমি চাচ্ছি দেশে যে সরকার আসবে তারা আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। আর আমাদের মধ্যে যাতে দুর্নীতি না হয়। ইউসেফ টেকনিক্যাল এর শিক্ষার্থী আরিফ আরমান বলেন, ‘আমি চাই নতুন সরকার আসুক এবং দেশের উন্নয়ন করুক। দেশের যত চাঁদাবাজি আছে এগুলো বন্ধ করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights