চাপ দিয়ে কাজ হবে না: যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ ইচ্ছা’ অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা হবে এর সঙ্গে ‘সহযোগিতা’র শামিল। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে ফের আলোচনার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

শুক্রবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত দুই পৃষ্ঠার এক চিঠিতে এসব অবস্থান তুলে ধরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তও জানানো হয়।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক চাপ শুরু করেছে। ছয় মাসের যুদ্ধের পর সামরিক পদক্ষেপের বদলে এখন তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো আগ্রহ ওয়াশিংটনের নেই।

এর বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেছেন, কূটনীতিকে আবার সঠিক পথে ফেরানো ‘অসম্ভব নয়’। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘সৃজনশীল আলোচনা’ হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা হবে কি না তা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সহজ সত্য—চাপ দিয়ে কাজ হবে না; বুঝতে পারার ওপর।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আস্থা তৈরি, সম্মানজনক ভাষায় কথা বলা, ইরানের অধিকার স্বীকার এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানান।

তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের শর্ত আরও বিস্তৃত। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হরমুজ নিয়ে যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবানন, গাজা ও সিরিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সিরিয়ায় হামলা বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সাময়িক ও সীমিত’ করিডর চালু করেছে। তবে এই নৌপথের ভবিষ্যৎ ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথ এখন উন্মুক্ত। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত, মঙ্গলবার সেখানে মাত্র ৫টি জাহাজ পার হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights