‘খেলোয়াড়রা ভীষণভাবে হতাশ হয়েছে, কোনো সন্দেহ নেই’
অনলাইন ডেস্ক
বোর্ডের সভাপতি থেকে শুরু করে দলের প্রধান কোচ, প্রধান নির্বাচক, ক্রিকেটার-সব জায়গাতেই একের পর এক পরিবর্তন। সবশেষ এজবাস্টন টেস্টের আগে দলের প্রায় অর্ধেক ক্রিকেটার বদলে ফেলেছে পাকিস্তান, সাথে পরিবর্তন করা হয়েছে কোচিং স্টাফের দুই সদস্যকেও।
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ইতোমধ্যে সিরিজ হার নিশ্চিত করে ফেলেছে পাকিস্তান। সিরিজের ফল নির্ধারণে ভূমিকা নেই এমন ম্যাচের আগে দলে এত এত পরিবর্তনে স্বাভাবিকভাবেই সাবেকদের সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
অন্যদের হিসাব যা-ই হোক, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা এরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত হওয়ারই কথা, কারণ বারবার তো এসব দেখেই খেলে এসেছেন তারা। সালমান আলী আঘাই যেমন হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ছিলেন দলের অধিনায়ক। লর্ডস টেস্টে একাদশ থেকে বাদ পড়া সালমান তৃতীয় টেস্টের আগে ফিরে গেছেন দেশেই।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান প্রধান কোচ মাইক হেসন সেসব ব্যাপারই মনে করিয়ে দিতে চাইলেন। হেসন বলেছেন, ‘গত কয়েকটা দিন হোটেলে থাকাটা বেশ কঠিন ছিল। কারণ কিছু খেলোয়াড় আসছিল, কিছু খেলোয়াড় চলে যাচ্ছিল এবং তারপর সবাই আসছিল। এই ধরনের কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ছেলেরা সম্ভবত আমার চেয়ে বেশি অভ্যস্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা (খেলোয়াড়) হতাশ হয়েছে, ভীষণভাবে হতাশ হয়েছে। আমাদেরকে ব্যাপারটা আপাতত থামিয়ে দিয়ে ভাবতে হয়েছে, “ঠিক আছে, এখন কী করা যায়?” গত কয়েক দিনে তারা খুব ভালোভাবেই সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।’
মাইক হেসন আরও বলেছেন, ‘আমি আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন (টেস্ট দলের প্রধান কোচের) দায়িত্বে আছি। ঘটনাগুলো খুব দ্রুতই ঘটেছে। আমি আসলে তখন জাপানে ছিলাম, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এরপর লাহোরে ফিরি এবং তারপর, যেমনটা বলেছি, পরিবর্তনগুলো আসতে যাচ্ছে বলে আমাকে খুব দ্রুত এখানে নিয়ে আসা হয়। আমাকে এর অংশ হতে বলা হয়েছিল। এরপর আমরা যত দ্রুত সম্ভব সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
প্লেয়ার-কোচদের বিদায় করা প্রসঙ্গে হেসন বলেছেন, ‘কেন তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আমি জানি না। আপনারা যা পড়েছেন, আমিও সেটাই পড়েছি, সেসব কথাও শুনেছি। আমি মনে করি, সালমান আলী আঘা গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। সম্ভবত তার তিনটি টেস্ট ভালো যায়নি, কিন্তু সে একজন মানসম্পন্ন খেলোয়াড়। অবশ্যই তাকে দলে না থাকতে হওয়ায় সে হতাশ। অন্য দুজনকে আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
হেসন জানিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের লাল বলের ক্রিকেটে আমি একেবারেই যুক্ত ছিলাম না। তাই আমি নির্বাচক প্যানেলের অংশও নই। আমি সাদা বলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য। এই সফরের জন্য যখন দল নির্বাচন করা হয়েছিল, তখন এতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনজন খেলোয়াড় ইতোমধ্যেই দল ছেড়ে গিয়েছিল – মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক এবং সালমান আলী আঘা।’
মাইক হেসনের মতে, ‘এরপর আমাদের তৃতীয় টেস্টের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়ার বিষয়টি সামনে আসে। যেভাবেই হোক, আমাদের কিছু পরিবর্তন করতেই হতো। পাশাপাশি এমন একটি ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হতো, যাতে আমাদের বোলিং আক্রমণ এই কন্ডিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সর্বোচ্চ সুযোগ পায়। শুরুটা সেখান থেকেই।’
এছাড়া আলী উসমানকে নিয়ে হেসন জানিয়েছেন, ‘আলী উসমান একজন কোয়ালিটি বোলার। কিন্তু আপনারা ইংল্যান্ডের কন্ডিশন দেখেছেন। বছরের এই সময়ে ইংল্যান্ডে এমন একজন ফিঙ্গার স্পিনারকে একাদশে খেলানো কঠিন, যে ব্যাটও করতে পারে না। বিশ্বের অন্যরকম কন্ডিশনে সামনে সে আবারও বিবেচনায় থাকতে পারে। কিন্তু এখানে আমরা এমন একজন ফিঙ্গার স্পিনারকে দলে রাখতে পারি না, যে প্রতি ইনিংসে দুই ওভার বোলিং করবে এবং ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিং – কোনোটিতেই অবদান রাখতে পারবে না। আমরা যেসব বিষয় আসলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেগুলো নিয়েই চিন্তা করি এবং যতটা সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নেই।’
মাইক হেসনের মতে, ‘আমরা জানি আমাদের কী মোকাবিলা করতে হবে। কিছু খেলোয়াড় এই দুই টেস্টে সামান্য হলেও সাফল্য পেয়েছে, তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারে। আর যারা পারেনি, তাদের অবশ্যই নিজেদের খেলায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। দলে কিছু নতুন মুখও এসেছে। তাদের কেউ কেউ এখনও আসেনি, আজই এসেছে। এতে দলে অনেক শক্তি ও উদ্দীপনা আসবে। পাশাপাশি আমাদের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্যও যোগ হবে, যা সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমার মনে হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার জন্যই এটি খুব কঠিন একটি পরিস্থিতি ছিল, যারা দলে এসেছে এবং যারা দল ছেড়ে গেছে, সবার জন্যই।’
প্রধান কোচ আরও বলেছেন, ‘সিরিজের মাঝপথে এ ধরনের ঘটনা ঘটুক তা কেউই চায় না। স্বাভাবিকভাবেই এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি। তবে আমার মনোযোগ এখন পুরোপুরি সামনে কী করা যায়, সেদিকে। এই মুহূর্তে আমি বিষয়টি নিয়ে খুব গভীরে যেতে চাই না। সামনে যা আছে, আমি মূলত সেটাতেই মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা যদি এই সপ্তাহে ভালো কিছু উন্নতি করতে পারি, তাহলে সেখানেই হবে একটি ভালো শুরু।’
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে মাঠে গড়াচ্ছে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের তৃতীয় এবং সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংলিশরা, ইতোমধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে সিরিজ জয়।
