নতুন মার্কিন নীতি, বিপদে পড়তে যাচ্ছে আরব মিত্ররা?

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে তাঁদের স্থায়ী সৈন্য ও স্থাপনার উপস্থিতি কমানোর বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি ইরানের সাথে বর্তমান সংঘাত সমাপ্তিতে সফল হতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ৯/১১ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশাল সামরিক অবকাঠামো তৈরি করেছিল, এবার সেখানে এক নতুন মোড় আসতে পারে।

যদিও অঞ্চলটিতে এখনও প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং দুটি যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ও ডজনখানেকের বেশি গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজের মতো শক্তিশালী সামরিক সরঞ্জাম অবস্থান করছে, তা সত্ত্বেও এই সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে এমন কিছু কৌশলগত অপশন ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বল প্রয়োগ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা গোপনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ থেকে সেনা সদস্য সংখ্যা কমাতে চান এবং একই সাথে এই অঞ্চলের নিরাপত্তার বড় দায়িত্ব মিত্র দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিতে চান। অন্যদিকে, যেসব সেনা অঞ্চলে থেকে যাবে, তাদের সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর অংশ হিসেবে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাটির নিচে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর এই নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থাপনাগুলোর দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তা সমাধানে জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ওই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কিছু মার্কিন স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। রিয়াদের সিআইএর একটি ঘাঁটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সামরিক ও গোয়েন্দা মিশন কোনো স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়াই পরিচালনা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ কেবল সুনির্দিষ্ট মিশনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানো হবে এবং কাজ শেষে তারা দেশে ফিরে আসবে।

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করার চিন্তাও করছে ওয়াশিংটন, কারণ এতে বিশাল খরচের বিষয় যুক্ত রয়েছে। গত এপ্রিলে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো মেরামত করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যতের অবস্থান ঠিক কেমন হবে তার ওপর। যদিও সেনা কমানোর বিষয়ে এমন চিন্তাভাবনা চলছে, তবে তেহরানের সাথে এখনও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে এখনও ইরান হামলা অব্যাহত রেখেছে।

পেন্টাগন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বৃহৎ স্থায়ী ঘাঁটি হয়তো শেষ পর্যন্ত থেকেই যাবে, তবে সেগুলো পুনর্নির্মাণের খরচ কতটা স্বাগতিক দেশগুলো বহন করবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। এছাড়া প্রধান নৌ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি বাহরাইনে সৈন্যরা এখনই ফিরে আসছে না। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, তারা খুব শিগগিরই সেখানে ফেরত যাচ্ছেন না। ফলে স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে, নিকট ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনীগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মধ্যেই অবস্থান করবে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights