৯ ফুটবলার ফেরত চায় মোহামেডান
ক্রীড়া প্রতিবেদক
জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প চলা অবস্থায় কবে কোন ক্লাব তাদের খেলোয়াড় প্রত্যাহার করে নিয়েছে? এর আগে ১৯৭৮ সালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার ঢাকায় এশিয়ান গেমসের ফুটবল ক্যাম্প চলছিল। গোলরক্ষক শহিদুর রহমান সান্টুকে অধিনায়ক ঘোষণা করায় আবাহনী তাদের ছয় খেলোয়াড়কে ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। আবাহনীর দাবি ছিল, তাদের দলের মনোয়ার হোসেন নান্নুকে অধিনায়ক করার কথা থাকলেও বাফুফে সেই সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে মোহামেডানের সান্টুকে অধিনায়ক করে। প্রতিবাদ হিসেবে এশিয়ান গেমসে আবাহনীর ছয় ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন, অমলেশ সেন, মনোয়ার হোসেন নান্নু, দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু ও রকিব হোসেন থাইল্যান্ডে খেলতে যাননি।
৪৮ বছর পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। আর তা মোহামেডানই ঘটাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান কাপ ফুটবলে অংশ নেবে বাংলাদেশ জাতীয় দল। কোচ থমাস ডুলির তত্ত্বাবধানে দলের অনুশীলন চলছে। মোহামেডানের সর্বোচ্চ ৯ ফুটবলার এখন জাতীয় দলের অনুশীলনে ব্যস্ত। আনিসুর রহমান জিকো, সুজন হোসেন, রহমত মিয়া, শাকিল আহাদ, সাদউদ্দিন, সোহেল রানা, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, শাহরিয়ার ইমন ও সৌরভ দেওয়ান শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে থাকবেন কি না সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জানান, জরুরি ভিত্তিতে তাঁদের ৯ ফুটবলারকে ক্যাম্প থেকে ফেরত চাওয়া হয়েছে চিঠির মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘বাফুফের কারণে এই স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোহামেডান ম্যানেজমেন্ট। কারণ তারা ক্লাবগুলোর অনুরোধ উপেক্ষা করে ঘরোয়া ফুটবলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।’
বাফুফের লিগ কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী পেশাদার লিগ ১৮ সেপ্টেম্বর এবং ২২ সেপ্টেম্বর ফেডারেশন কাপ শুরু হবে। মোহামেডানসহ কয়েকটি ক্লাব ঘরোয়া ফুটবল পেছানোর দাবি করে ফেডারেশনে চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু ফেডারেশন কর্ণপাত করেনি। তাহলে এ নিয়ে এখন মোহামেডানের সিদ্ধান্ত কী? এ ব্যাপারে লোকমান বলেন, ‘অতীতে বহুবার কর্মসূচি পেছানো হয়েছে। মানলাম এবার না হয় সম্ভব নয়। কিন্তু যে চিঠিটা পাঠানো হয়েছিল তার জবাব তো দেওয়া উচিত ছিল। ক্লাবগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত কথা না বলে কর্মসূচি শুধু নয়, দেখলাম ফিকশ্চারও তৈরি হয়ে গেছে! যেখানে আমাদের ৯ ফুটবলার জাতীয় দলের ক্যাম্পে, সেখানে আমরা খেলব কীভাবে? খেলতে হলে আমাদের ৯ ফুটবলারকে ক্যাম্প থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে ঘরোয়া ফুববল। কেউ যেন অবিচারের শিকার না হয়। বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী ফিফার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে সস্যায় ছিল তখন কি বাফুফেকে আমরা সহযোগিতা করিনি? আমাদের ক্ষেত্রে কেন অবিচার! ক্লাব নিয়েই তো ফুটবল, সেখানে যদি আমাদের উপেক্ষা করা হয় তখন আমরা কার কাছে যাব?’
